মিয়ামি, ফ্লোরিডা-তে জন্মগ্রহণকারী আমেরিকান চলচ্চিত্র নির্মাতা কেলি রেইচার্ডকে ২০২৬ সালের ৫৭তম “Visions du Réel” ডকুমেন্টারি উৎসবে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সুইসের ন্যোন শহরে ১৭ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই উৎসবে রেইচার্ডের মাস্টারক্লাস, তার কাজের রেট্রোস্পেকটিভ এবং সর্বশেষ ফিচার “The Mastermind” এর বিশেষ স্ক্রিনিং অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই স্ক্রিনিংটি দেশের সীমিত থিয়েটার মুক্তির আগে অনুষ্ঠিত হবে, যা দর্শকদের জন্য এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করবে।
উৎসবের পূর্ণ প্রোগ্রাম ২৫ মার্চ প্রকাশিত হয় এবং এতে রেইচার্ডের চলচ্চিত্রের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। ৩০ বছরের বেশি সময়ে তিনি মোট নয়টি ফিচার ফিল্ম এবং বহু স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন, যার মধ্যে “Meek’s Cutoff”, “First Cow” এবং “Certain Women” উল্লেখযোগ্য। তার কাজের মূল বৈশিষ্ট্য হল হলিউডের বড় বাজেটের বিপরীতে স্বতন্ত্র, সীমিত সম্পদে নির্মিত চলচ্চিত্র, যা আমেরিকান মিথ ও ঐতিহ্যকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে।
রেইচার্ডের চলচ্চিত্রশৈলীকে সহজতা ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়। তিনি নাটকীয় চমক বা অতিরিক্ত ভিজ্যুয়াল প্রভাবের বদলে ছোট ছোট অঙ্গভঙ্গি, স্থানীয় পরিবেশ এবং সময়ের প্রবাহকে কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে ব্যবহার করেন। এই পদ্ধতি তাকে সমসাময়িক স্বাধীন সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে, যেখানে তিনি আমেরিকান স্বপ্নের পেছনে থাকা অবহেলিত মানুষ ও সম্প্রদায়ের গল্পকে তুলে ধরেন।
উৎসবের আয়োজকরা রেইচার্ডের কাজের প্রতি প্রশংসা জানিয়ে বলেন, তার চলচ্চিত্রগুলো “সাহসী, সূক্ষ্ম এবং রেডিক্যাল” বৈশিষ্ট্য বহন করে, যা আমেরিকান মিথের পুনঃব্যাখ্যা করে এবং দৃশ্যমান চমক থেকে দূরে সরে গিয়ে মানবিক অভিজ্ঞতার গভীরতা অনুসন্ধান করে। তার গল্পগুলো প্রায়ই পশ্চিমা, থ্রিলার, ঐতিহাসিক ও রোড মুভির ধারাকে পুনর্নির্মাণ করে, তবে তা সবই বাস্তবের নিকটবর্তী একটি ন্যূনতম শৈলীতে উপস্থাপিত হয়।
রেইচার্ডের চলচ্চিত্রশৈলীর আরেকটি দিক হল “সিনেমা অফ দ্য রিয়াল” এর সঙ্গে তার সংযোগ। যদিও তার কাজগুলো মূলত কাল্পনিক, তবু তারা সংবেদনশীলতা ও উৎপাদন খরচের দিক থেকে বাস্তবিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে। তিনি দৃশ্যাবলীর জন্য দীর্ঘ সময় স্কাউটিং করেন, স্ক্রিপ্টকে স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেন এবং অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা থেকে বিরত থাকেন। এই পদ্ধতি তার চলচ্চিত্রকে স্বতন্ত্র পরিচয় দেয় এবং দর্শকের কাছে বাস্তবের কাছাকাছি অনুভূতি তৈরি করে।
উৎসবে রেইচার্ডের মাস্টারক্লাসে অংশগ্রহণকারী চলচ্চিত্র নির্মাতারা তার সৃজনশীল প্রক্রিয়া, স্ক্রিপ্টের গঠন এবং লোকেশন নির্বাচন সম্পর্কে সরাসরি শিখতে পারবেন। রেট্রোস্পেকটিভ সেশনে তার পুরনো ও নতুন কাজের ধারাবাহিকতা দেখা যাবে, যা তার ক্যারিয়ারের বিকাশকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করবে। এছাড়া, “The Mastermind” এর প্রি-সিনেমা স্ক্রিনিংটি সুইস দর্শকদের জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা, যেখানে তারা চলচ্চিত্রের প্রথম প্রকাশের আগে তার কাজের সূক্ষ্মতা অনুভব করতে পারবেন।
এই সম্মানজনক উপস্থিতি সুইস ডকুমেন্টারি উৎসবের আন্তর্জাতিক আকর্ষণ বাড়াবে এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী দর্শকদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করবে। রেইচার্ডের কাজের গভীরতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ন্যোনের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা প্রদান করবে, যা আমেরিকান সংস্কৃতির জটিলতা ও বৈচিত্র্যকে নতুন আলোতে উপস্থাপন করবে।



