অ্যান্টি-করাপশন কমিশন (ACC) আজ আইসিটি বিভাগে একটি অনুসন্ধানমূলক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের তহবিল ব্যবহার করে ‘মুজিব ভাই’ ও ‘খোকা’ শিরোনামের দুইটি রাষ্ট্র-সমর্থিত প্রকল্পে সম্ভাব্য দুর্নীতির প্রমাণ সংগ্রহ করা।
ACC সদর দফতরের একটি কার্যকরী দল আইসিটি বিভাগের প্রশাসনিক ইউনিটে প্রবেশ করে। দলটি প্রকল্প সংক্রান্ত নথি, টেন্ডার পত্র এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ড সংগ্রহ করে, যা পরবর্তীতে কমিশনের কাছে বিশ্লেষণের জন্য জমা দেওয়া হবে।
সংগৃহীত নথি পর্যালোচনা শেষে দলটি একটি বিশদ প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে বলে জানানো হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি দুর্নীতির মাত্রা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সনাক্তকরণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
অভিযানের সময় জানা যায় যে, ‘মুজিব ভাই’ অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র এবং ‘খোকা’ সিরিজটি আইসিটি বিভাগের ‘মোবাইল গেম ও অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টে দক্ষতা বৃদ্ধির’ প্রকল্পের অধীনে তৈরি হয়েছিল। এই প্রকল্পটি সরকারী দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছিল।
‘মুজিব ভাই’ চলচ্চিত্রের উৎপাদন তত্ত্বাবধান করেছে টেকনোম্যাজিক প্রাইভেট লিমিটেড ও হাইপার ট্যাগ লিমিটেড। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৫.১০ কোটি টাকা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ১১টি পর্বের ‘খোকা’ সিরিজের উৎপাদন টিম অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড ও মার্স সলিউশন লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে সম্পন্ন হয়েছে। এই সিরিজের মোট ব্যয় ১৯.৮০ কোটি টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ACC উল্লেখ করেছে যে, সংগ্রহ করা নথি ও টেন্ডার পত্রের ভিত্তিতে দুর্নীতির মাত্রা নির্ধারণের পর যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আর্থিক হিসাব ও চুক্তি শর্তাবলী পুনরায় যাচাই করা হবে।
এই অভিযানটি দেশের দুর্নীতি বিরোধী নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সরকারী তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখতে ACC এই ধরনের অনুসন্ধান চালিয়ে যাবে।
পরবর্তী সময়ে ACC কর্তৃক প্রস্তুত করা প্রতিবেদনটি কমিশনের উচ্চতর স্তরে উপস্থাপন করা হবে। প্রতিবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় জড়িত সব পক্ষকে আইনগত প্রক্রিয়ার অধীনে সম্যক তদন্তের সুযোগ দেওয়া হবে এবং ফলাফল অনুযায়ী যথাযথ শাস্তি প্রদান করা হবে।



