ঢাকা, ১৩ ফেব্রুয়ারি – জাতীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলনের উদ্বোধনী সেশনে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস তরুণদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়ে আশাব্যঞ্জক মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের যুবকরা নিজেদের দল গঠন করেছে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। তার মতে, এই তরুণদের মধ্যে কিছু নির্বাচিত হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে পারে।
সম্মেলনটি ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা‑২০২৬’ শিরোনামে ঢাকা হোটেল লা মেরিডিয়ানে অনুষ্ঠিত হয়। উপদেষ্টা ইউনূসের বক্তব্যের সময় তিনি উল্লেখ করেন, এই তরুণরা একসময় আমাদের ক্লাসরুমে উপস্থিত ছিল, এখন তারা রাস্তায় নেমে নিজেদের রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করেছে।
তিনি যোগ করেন, তরুণদের রাজনৈতিক দলগুলো শীঘ্রই ব্যালটে থাকবে এবং ভোটারদের সামনে তাদের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করবে। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে কিছু তরুণ রাজনীতিবিদ নির্বাচিত হয়ে শিক্ষাখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইউনূস শিক্ষাবিদ সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মান ও দিকনির্দেশনা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যেতে। তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা চাকরিমুখী হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা অর্জনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, শিক্ষার লক্ষ্য শুধুমাত্র ডিগ্রি প্রদান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সমগ্র বিকাশ নিশ্চিত করা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন আমরা এমন একটি শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলছি, যেখানে চাকরির বাজারে প্রবেশের জন্য ডিগ্রি অপরিহার্য বলে ধরা হয়।
ইউনূসের মতে, যদি শিক্ষার্থীরা চাকরি পেতে ব্যর্থ হয়, তবে তা পুরো শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানবসম্পদ গঠন, শুধুমাত্র চাকরির সরবরাহ নয়।
এছাড়া, তিনি ২০২৪ সালের জুলাই‑আগস্টে ঘটিত অভ্যুত্থানকে উল্লেখ করে, বর্তমান সময়ে (জানুয়ারি ২০২৬) এই বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের অবস্থান, মিস করা দিক এবং কীভাবে পিছিয়ে না থেকে অগ্রগতি করা যায়, তা নির্ধারণ করা আজকের চ্যালেঞ্জ।
উল্লেখযোগ্য যে, শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদ চাকরিমুখী শিক্ষার সমালোচনা করে আসছেন। তারা যুক্তি দেন, এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা দমন করে। ইউনূসের মন্তব্য এই সমালোচনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, যেখানে তিনি শিক্ষার পুনর্গঠন দাবি করেন।
সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীরা ইউনূসের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে, শিক্ষার কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। কিছু অংশগ্রহণকারী উল্লেখ করেন, বর্তমান পাঠ্যক্রমে বাস্তব দক্ষতার অভাব রয়েছে এবং তা চাকরির বাজারে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে।
প্রফেসর ইউনূসের বক্তব্যের পর, তিনি উপস্থিত তরুণ রাজনীতিবিদদেরকে শ্রেণিকক্ষ থেকে রাস্তায় যাওয়ার কারণ ও তাদের প্রত্যাশা সম্পর্কে জানার সুযোগ চেয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই তরুণ নেতাদেরকে নীতিনির্ধারণে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এই আলোচনার মাধ্যমে, উচ্চশিক্ষা ও যুব রাজনীতির সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে। উপদেষ্টা ইউনূসের মতে, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ একসঙ্গে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সমাপনী সেশনে, অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষার পুনর্গঠন, চাকরিমুখী পদ্ধতির সমালোচনা এবং তরুণ রাজনীতিবিদদের নির্বাচনী সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। সকলের সম্মতিতে, আগামী নির্বাচনে তরুণদের অংশগ্রহণকে সমর্থন ও পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়।



