বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দল আজ নেপালে টি২০ বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার শুরুতে রওনা হয়েছে, যা ১৮ জানুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিত হবে। ক্যাপ্টেন নিগার সুলতানা জোটি দলের প্রস্তুতি, কৌশলগত পরিবর্তন এবং নিজের উইকেটকিপিং দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
দলটি দেশের অভ্যন্তরীণ টুর্নামেন্টগুলোকে প্রস্তুতির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছে। ন্যাশনাল ক্রিকেট লীগ (এনসিএল) কে বিখ্যাত বিএসপি ক্যাম্পাসে টি২০ ফরম্যাটে আয়োজিত করা হয়, আর বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ (বিসিএল)‑ও ঐতিহ্যগত দীর্ঘ ফরম্যাটের বদলে টি২০ রূপে অনুষ্ঠিত হয়। এই দুই প্রতিযোগিতার পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে খেলোয়াড়দের নির্বাচন করা হয়েছে।
বিশেষ করে রাজশাহীর বিডিএল ম্যাচগুলোকে উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে অংশগ্রহণকারী সকলের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক ছিল, যা কোচিং স্টাফকে দল গঠনে আত্মবিশ্বাস দেয়।
ক্যাপ্টেনের মতে, কোয়ালিফায়ার ক্যাম্প শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুইটি প্র্যাকটিস ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও ক্যাম্পের সময়সীমা সীমিত, তবে খেলোয়াড়রা বিসিএল-এ ব্যবহৃত ভাল পিচে প্রশিক্ষণ নেওয়ায় শটের গতি ও নির্ভুলতা বাড়ে।
প্র্যাকটিস ম্যাচে দেখা গিয়েছে যে, খেলোয়াড়দের শটের তীব্রতা এবং রিদম উন্নত হয়েছে, ফলে দলটি এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামতে প্রস্তুত।
সাতটি ম্যাচের একটি টুর্নামেন্টে দলকে পরীক্ষার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জোটি বলেন, এই প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন দেশের মুখোমুখি হয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং নতুন কৌশল প্রয়োগ করা সম্ভব।
বিশ্বকাপের আগে এই কোয়ালিফায়ারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, কারণ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এক সপ্তাহ বা এক মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।
দলটি দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি শুরু করেছে, যা এখন থেকে কোয়ালিফায়ার পর্যন্ত চলবে। এই সময়ে দলকে বিভিন্ন সংযোজন, কৌশল এবং খেলোয়াড়ের ভূমিকা পরীক্ষা করার সুযোগ থাকবে।
ক্যাপ্টেন উল্লেখ করেছেন যে, শক্তি-হিটিংয়ে পারদর্শী কিছু খেলোয়াড়কে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের স্বাচ্ছন্দ্যের জোনে খেলতে দিয়ে দলকে দ্রুত স্কোর তৈরি করার সম্ভাবনা বাড়ানো হয়েছে।
নিগার সুলতানা জোটি নিজে উইকেটকিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ক্যাপ্টেনের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। তিনি বলছেন, উভয় ভূমিকা একসাথে নেয়া চ্যালেঞ্জিং হলেও দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কোয়ালিফায়ার টুর্নামেন্টের সূচি জানানো হয়েছে; প্রথম ম্যাচ ১৮ জানুয়ারি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ দলকে এই সুযোগে শীর্ষ ১০ দলের মধ্যে স্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, দেশীয় টুর্নামেন্টের টি২০ রূপান্তর, প্র্যাকটিস ম্যাচের সফলতা এবং শক্তি-হিটিং খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি—all এই বিষয়গুলোকে ক্যাপ্টেন জোটি দলের প্রস্তুতির মূল স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা নেপালে আসন্ন কোয়ালিফায়ারে দলকে শক্তিশালী অবস্থানে রাখবে।



