বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আজ প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেমের সার্ভার ও ব্যবহৃত আইপি সম্পূর্ণভাবে দেশের সীমার মধ্যে রয়েছে এবং কোনো বিদেশি সংযোগের সম্ভাবনা নেই। এই স্পষ্টীকরণটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া গুজবের প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছে।
বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ মঙ্গলবার একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনইআইআর সিস্টেমের ডেটা সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটের আমদানি ও চুরি রোধ, অবৈধ ডিভাইস ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ দমন এবং রাজস্ব সুরক্ষার লক্ষ্যে এনইআইআর চালু করা হয়েছে।
সিস্টেম চালু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্কে সার্ভারের অবস্থান এবং আইপি ঠিকানা নিয়ে ভুল তথ্য প্রচারিত হচ্ছে। এসব গুজবের ফলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছিল, যা বিটিআরসির দ্রুত পদক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিটিআরসি স্পষ্ট করে বলেছে যে, এনইআইআর সিস্টেমের সব তথ্য দেশের অভ্যন্তরে একটি সুরক্ষিত ডেটা সেন্টারে সংরক্ষিত। এই সেন্টারটি দেশের নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসারে নির্মিত এবং কোনো তৃতীয় পক্ষের প্রবেশাধিকার নেই। ডেটা হোস্টিংয়ের জন্য বিটিআরসি নিজস্ব হার্ডওয়্যার ব্যবহার করেছে, যা সরকারী ডেটা প্রোটেকশন আইনের সব শর্ত পূরণ করে।
আইপি সংক্রান্ত বিষয়েও কমিশন নিশ্চিত করেছে যে, ব্যবহৃত আইপি ঠিকানা বাংলাদেশের একটি স্বীকৃত সংস্থার অধীনে বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে কোনো ট্রাফিক প্রবাহের সুযোগ নেই এবং ডেটা বিদেশে প্রেরণ করা হয় না। এই ব্যবস্থা দেশের সাইবার নিরাপত্তা নীতি মেনে চলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এছাড়াও, এনইআইআর সিস্টেমের সব রিকোয়েস্ট এবং প্রক্রিয়াকরণ সম্পূর্ণভাবে দেশের সীমার মধ্যে সম্পন্ন হয়। আইপি রুটের বিশদ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ডেটা প্রবাহের কোনো অপ্রয়োজনীয় লিঙ্ক নেই এবং সব যোগাযোগ অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ।
বিটিআরসি সকল ব্যবহারকারীকে অনুরোধ করেছে যে, গুজব বা অপপ্রচারে প্রভাবিত না হয়ে অফিসিয়াল সূত্র থেকে তথ্য গ্রহণ করুন। কমিশন উল্লেখ করেছে যে, গুজবের ফলে সিস্টেমের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ব্যবহারকারীর ক্ষতি করে।
এনইআইআর সিস্টেমের গুরুত্বের কথা উল্লেখ না করলে না যায়। মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও অননুমোদিত হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারী নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়েছে। এই রেজিস্টারটি প্রতিটি ডিভাইসের ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন রেকর্ড করে, যা চুরি, নকল বা অবৈধ বিক্রয় চিহ্নিত করতে সহায়তা করে।
সিস্টেমের মাধ্যমে ডিভাইসের উৎপত্তি, মডেল, এবং বৈধতা যাচাই করা যায়, ফলে অপরাধমূলক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ডিভাইস দ্রুত সনাক্ত করা সম্ভব। এছাড়া, রেজিস্টারটি ট্যাক্স সংগ্রহে স্বচ্ছতা আনে এবং সরকারের রাজস্ব বাড়াতে সহায়তা করে।
বিটিআরসির মতে, এনইআইআর চালু হওয়ার পর থেকে অবৈধ হ্যান্ডসেটের বাজারে প্রবেশের হার কমেছে এবং আইনগত পদক্ষেপের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, গুজবের প্রভাব কমাতে তথ্যের সঠিক প্রচার অপরিহার্য, তাই কমিশন নিয়মিতভাবে আপডেটেড তথ্য প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রযুক্তি কলাম হিসেবে এই বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে সুরক্ষিত রাখতে ডেটা লোকালাইজেশন নীতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এনইআইআর সিস্টেমের মতো উদ্যোগগুলো কেবল নিরাপত্তা নয়, বরং ডেটা সুভিধা ও সেবার গুণগত মান উন্নত করে।
ভবিষ্যতে, এনইআইআরকে অন্যান্য সেবা ও প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত করা হলে মোবাইল ইকোসিস্টেমের সামগ্রিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা আরও বাড়বে। বিটিআরসি এই দিকেও কাজ চালিয়ে যাবে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুজবের মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
সারসংক্ষেপে, বিটিআরসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এনইআইআর সিস্টেমের সার্ভার ও আইপি সম্পূর্ণভাবে দেশের ভিতরে এবং নিরাপদে পরিচালিত হচ্ছে, এবং গুজবের ভিত্তিতে কোনো তথ্য পরিবর্তন করা হয়নি। ব্যবহারকারীদের সঠিক তথ্য গ্রহণের জন্য অফিসিয়াল চ্যানেল অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



