অস্ট্রেলিয়ার টেনিসপ্রতিভা অলিভার অ্যান্ডারসন, ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন বয়েজ সিঙ্গেলস শিরোপা জয় করে দেশের গর্ব হয়ে ওঠেন। সেই সময়ে তিনি স্টেফানোস ত্সিটসিপাস, ফেলিক্স অগার‑আলিয়াসিম এবং অ্যালেক্স দে মিনোরের মতো ভবিষ্যৎ শীর্ষ‑১০ খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। শিরোপা জয়ের পর আঘাতের কারণে দীর্ঘ সময়ের বিরতি নিতে হয় এবং সার্জারির পর আর্থিক চাপ বাড়ে।
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে, অ্যান্ডারসন ট্রারালগন, অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি ATP চ্যালেঞ্জার টুর্নামেন্টে অংশ নেন। দ্বিতীয় রাউন্ডে তিনি পরাজিত হন, তবে তার পূর্বের ম্যাচে তিনি তিন সেটে ফিরে জয়ী হওয়ার পর পুলিশ নজরে আসে। সেই ম্যাচে তিনি হ্যারিসন লম্বের সঙ্গে খেলেন, যিনি র্যাঙ্কিংয়ে ১,৫০০‑এর নিচে ছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী লম্ব প্রথম সেট জিতেন, আর অ্যান্ডারসন পরের দুই সেটে ৬‑০, ৬‑২ স্কোরে জয়ী হন, ফলে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়।
অস্ট্রেলিয়ার গোপন পুলিশ দল কোোর্টের বাইরে অপেক্ষা করছিল, যা অ্যান্ডারসনকে বুঝিয়ে দেয় যে তিনি তদন্তের শিকার হয়েছেন। তিনি পরে বলছেন, “সবকিছু দ্রুত ঘটল, কেউ আমাকে প্রস্তাব দিল, আমি তা গ্রহণ করলাম, তারপর কোোর্ট ছেড়ে বেরিয়ে আমি বড় সমস্যায় পড়ি।” তিনি স্বীকার করেন যে ম্যাচ‑ফিক্সিং সিন্দুকের লোকেরা টুর্নামেন্টের আগে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল।
অ্যান্ডারসনের মতে, আঘাতের পর আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিক দায়িত্ব পূরণের জন্য একটি সেট হারানোর সহজ উপায় দেখেছিলেন। তবে তিনি এখনও জানেন না কীভাবে পুলিশকে তথ্য পৌঁছায়। তার এই কাজের ফলে তিনি প্রায় এক দশক ধরে পেশাদার টেনিস থেকে দূরে ছিলেন, তবে সাম্প্রতিক সময়ে “কোয়ার্টার‑লাইফ ক্রাইসিস” নামে পরিচিত মানসিক সংকট অতিক্রম করে আবার পেশায় ফিরে এসেছেন।
বর্তমানে ২৭ বছর বয়সী অ্যান্ডারসন আবার আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন, যদিও তিনি এখনও এই ঘটনার বিশদে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তার ক্যারিয়ার পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছেন। টেনিস জগতে ম্যাচ‑ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে, এবং অ্যান্ডারসনের ঘটনা এই সমস্যার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে কাজ করছে।
অস্ট্রেলিয়ার টেনিস সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক টেনিস ফেডারেশন এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে। অ্যান্ডারসনের পুনরায় মাঠে ফিরে আসা তার ব্যক্তিগত পুনরুদ্ধারই নয়, টেনিসের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। ভবিষ্যতে তিনি কোন টুর্নামেন্টে অংশ নেবেন এবং তার পারফরম্যান্স কীভাবে থাকবে, তা টেনিসপ্রেমীদের নজরে থাকবে।



