ঢাকার আগারগাঁওয়ে সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মের আয়োজিত “জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা” শীর্ষক অনুষ্ঠানে ১১‑দলীয় রাজনৈতিক জোটে না যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ব্যর্থতা হিসেবে স্বীকার করে এবিপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু নাগরিকদের সরাসরি ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নতুন রাজনৈতিক গঠন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পারা সম্পূর্ণ তার নিজের দায়িত্ব।
মঞ্জু বলেন, ছোট দল হিসেবে আমরা ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে অক্ষম ছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত পুরনো রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে নিজেকে যুক্ত করতে বাধ্য হয়েছি। তিনি এও উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাস্তবতা ছোট দলগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন, যেখানে নতুন দলগুলোকে প্রায়ই অস্তিত্বের হুমকির মুখে দাঁড়াতে হয়।
বড় জোটে না গেলে ছোট দলগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে যায়, এ কথায় মঞ্জু তার দলের জোটে না যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনের মূল কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি স্বীকার করেন, এই সিদ্ধান্তে কিছু সমর্থক কষ্ট পেয়েছেন, তবে তিনি বলেন, ক্ষমা চাওয়া হলে তা গ্রহণ করা উচিত, না করলে তা সমাজে নেতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে তুলবে।
নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে তুলতে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে তিনি দলের আর্থিক ও সংগঠনগত সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগ, ভোট পাহারা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা এককভাবে পরিচালনা করা তার দলের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এই সীমাবদ্ধতা তাকে এবং তার দলের নেতাকর্মীদের সামাজিক মাধ্যমে অপমান, বিদ্রূপ এবং বুলিংয়ের শিকার করে তুলেছে।
মঞ্চে উপস্থিত শ্রোতাদের কাছ থেকে ক্ষমা গ্রহণের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, কোনো স্পষ্ট সাড়া না পেয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ক্ষমা চাওয়া হলে তা দেওয়া উচিত, না দিলে তা সমাজে নেতিবাচক মনোভাবের জন্ম দেবে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া তাসনিম জারার উদাহরণ দিয়ে মঞ্জু ব্যাখ্যা করেন, সব প্রার্থীর সমান সুযোগ থাকে না। তাসনিমের পটভূমি ও শক্তিশালী মিডিয়া সমর্থন থাকা সত্ত্বেও তিনি এক শতাংশেরও কম সমর্থন পেয়েছেন। মঞ্জু বলেন, যাদের এমন সুবিধা নেই, তারা একা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারে না।
মঞ্চে উপস্থিত অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশ্লেষকরা মঞ্জুর বক্তব্যের প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। কিছু অংশগ্রহণকারী নতুন দলগুলোর জন্য আর্থিক ও সংগঠনগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন, অন্যদিকে কিছু মন্তব্য করেন যে জোটে না যোগ দেওয়া স্বতন্ত্রতা বজায় রাখার একটি কৌশল হতে পারে। তবে মঞ্চে কোনো স্পষ্ট সমর্থন বা বিরোধিতা প্রকাশ পায়নি, বরং শূন্যতা ও নীরবতা লক্ষ্য করা যায়।
মঞ্জু শেষ করে বলেন, নতুন রাজনীতির জন্য আর্থিক সক্ষমতা, সংগঠন এবং পৃষ্ঠপোষকতার অভাবের কারণে অনেক দল স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বৃহত্তর জোটের সাথে সমন্বয় করে ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে।
এই ঘটনাটি এবিপি পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশল ও ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বাভাসে নতুন দিক উন্মোচন করেছে। মঞ্জুর ক্ষমা চাওয়া এবং জোটে না যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রভাব কীভাবে ভোটার আচরণ ও অন্যান্য ছোট দলকে প্রভাবিত করবে, তা পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাবে।



