আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ ম্যাচের জন্য ভারতের ভিন্ন শহরে ভেন্যু নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে ম্যাচগুলোকে কলকাতা ও মুম্বাইতে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল, তবে আইসিসি চেন্নাই ও থিরুভানন্তপুরামকে বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এই পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
প্রাথমিকভাবে আইসিসি কলকাতা ও মুম্বাইকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচের হোস্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। দু’শহরের আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম ও অবকাঠামোকে বিবেচনা করে এই নির্বাচন করা হয়েছিল। তবে ভেন্যু পরিবর্তনের সম্ভাবনা উত্থাপিত হওয়ার পর থেকে আইসিসি নতুন বিকল্পগুলো উপস্থাপন করেছে।
আইসিসি কর্তৃক প্রস্তাবিত চেন্নাই ও থিরুভানন্তপুরাম উভয়ই আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম ধারণ করে এবং লজিস্টিক দিক থেকে সুবিধাজনক বলে বিবেচিত। এই দুই শহরের ভেন্যু পরিবর্তন করলে ম্যাচের শিডিউল ও টিকিট বিক্রয় প্রক্রিয়ায় কিছু সমন্বয় করতে হবে, তবে আইসিসি এই পরিবর্তনকে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখেছে।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ১০ জানুয়ারি সিলেটের একটি সংবাদ সম্মেলনে এই প্রস্তাবের প্রতি তার অবস্থান প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “ভারতের অন্য ভেন্যু তো ভারতেই, তাই আমরা বিষয়টি বিবেচনা করছি।” বুলবুলের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়ে উন্মুক্ত, তবে শেষ সিদ্ধান্ত আইসিসির আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়ার পরই নেওয়া হবে।
বিসিবি পূর্বে আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠিয়ে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ করেছিল। শ্রীলঙ্কা ভেন্যুকে নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক সুবিধার দিক থেকে উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে শ্রীলঙ্কা প্রস্তাবের ওপর আইসিসির কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি, ফলে বাংলাদেশ এই বিকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
বুলবুল জানান, শ্রীলঙ্কা প্রস্তাবের উত্তর আজকের মধ্যে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে আইসিসি যদি শ্রীলঙ্কা বিকল্পটি প্রত্যাখ্যান করে, তবে বাংলাদেশের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আইসিসির চিঠি না আসা পর্যন্ত আমরা কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে বিসিবি আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
আইসিসি যে চিঠি পাঠিয়েছে তাতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের উল্লেখ রয়েছে। বাংলাদেশি দল ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে। এই উদ্বেগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক অম্পায়ার শরফুদ্দৌলা সৈকতের নিরাপত্তা বিষয়ক বিবরণ থাকতে পারে।
শরফুদ্দৌলা সৈকত সম্প্রতি বারোদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত নিউজিল্যান্ড‑ভারত ওয়ানডে ম্যাচে অম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্সকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের দৃষ্টিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে ভারতের সরকারি স্তর থেকে সরাসরি সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। বিসিবি আশা করে যে ভারতীয় সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করবে, যাতে ম্যাচের সময় সকল পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
বুলবুলের মতে, এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো সরকারি আলোচনা শোনেননি। তিনি বলেন, “আমি এমন কোনো তথ্য পাইনি যে সরকারী স্তরে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো মিটিং হয়েছে।” এই মন্তব্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক সংলাপের অভাব স্পষ্ট হয়েছে।
বিসিবি চিঠি পাঠানোর পর আইসিসি বিসিবির নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে বুলবুল জানিয়েছেন। এই যোগাযোগের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ রোববার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এর সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা চালিয়ে গেছেন। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হল ভেন্যু পরিবর্তন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ সমাধান করা, যাতে বাংলাদেশি দলকে কোনো ঝুঁকি না হয়।
সারসংক্ষেপে, আইসিসি ভারতের চেন্নাই ও থিরুভানন্তপুরামকে নতুন ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করেছে, তবে বিসিবি এখনও আইসিসির চূড়ান্ত উত্তর ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পষ্টতা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ভেন্যু পরিবর্তন, শ্রীলঙ্কা বিকল্পের প্রত্যাখ্যান, এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা—all এই বিষয়গুলো একসাথে মিলিয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারিত হবে।



