আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত তাদের বর্তমান অবস্থান পুনরায় বিবেচনা করতে অনুরোধ জানিয়েছে। এই আহ্বানটি ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি ভিডিও কনফারেন্সের পর প্রকাশ পায়, যেখানে দু’পক্ষের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনা করেন।
বিসিবি জানায়, আইসিসি তাদের সঙ্গে একত্রে আলোচনার মাধ্যমে এই বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং বাংলাদেশকে শর্তসাপেক্ষে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। কনফারেন্সে উভয় সংস্থার কর্মকর্তারা টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং সকল দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
এই আহ্বানের পেছনে রয়েছে টি২০ বিশ্বকাপের ভেন্যু সংক্রান্ত চলমান বিতর্ক। পূর্বে আইসিসি নির্ধারিত শিডিউলে দেখা যায়, বাংলাদেশ দল তাদের চারটি গ্রুপ ম্যাচই ভারতের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে খেলবে। এই ব্যবস্থা কিছু দেশীয় ভক্ত ও খেলোয়াড়ের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে, কারণ তারা হোম গ্রাউন্ডে ম্যাচ দেখতে চায়।
বিসিবি ৩ জানুয়ারি এবং ৪ জানুয়ারি দুইবার আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। সেই দিনগুলোতে বোর্ডের মুখপাত্র দেশীয় মিডিয়ায় প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশকে হোম গ্রাউন্ডে অন্তত একটি ম্যাচের সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে আইসিসি এই দাবিকে ত্বরান্বিতভাবে প্রত্যাখ্যান করে, টুর্নামেন্টের সামগ্রিক লজিস্টিক্সের দিক থেকে সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি ব্যাখ্যা করে।
১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ভিডিও কনফারেন্সে আইসিসি প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করে বলেন, যদি বাংলাদেশ তাদের বর্তমান অবস্থান বজায় রাখে, তবে টুর্নামেন্টের শিডিউল ও ভেন্যু পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা কঠিন হতে পারে। তবে তারা একই সঙ্গে বোর্ডকে পুনর্বিবেচনা করার সুযোগ দেয়, যাতে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।
শিডিউল অনুযায়ী, বাংলাদেশ দল ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে ভারতের বিভিন্ন শহরে মোট চারটি ম্যাচ খেলবে। প্রথম ম্যাচটি কলকাতা, দ্বিতীয়টি দিল্লি, তৃতীয়টি মুম্বাই এবং চতুর্থটি চেন্নাইতে নির্ধারিত। এই ভেন্যুগুলো আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, তবে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে ভ্রমণ ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।
বিসিবি পূর্বে উল্লেখ করেছে, ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য আইসিসির সঙ্গে চলমান আলোচনায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক, সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার মতো বিকল্প স্থানও প্রস্তাব করেছে, তবে আইসিসি এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। এই প্রেক্ষাপটে, আইসিসি যে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে, তা মূলত বাংলাদেশকে তাদের অবস্থান নমনীয় করে টুর্নামেন্টের সামগ্রিক সাফল্য নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে।
আইসিসি কর্তৃক প্রকাশিত এই অনুরোধের ফলে বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু ভক্ত টিমের হোম গ্রাউন্ডে ম্যাচের অধিকার দাবি করছেন, অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক টুর্নামেন্টের সামগ্রিক সুষ্ঠু পরিচালনার পক্ষে মত প্রকাশ করছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ স্পষ্টভাবে নতুন ভেন্যু বা শিডিউল নিশ্চিত করেনি।
বিসিবি এই মুহূর্তে আইসিসির সঙ্গে পুনরায় আলোচনার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং উভয় সংস্থার মধ্যে সমঝোতা হলে শিডিউল সংশোধনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকবে। তবে আইসিসি উল্লেখ করেছে, টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে অগ্রসর হওয়ায় বড় পরিবর্তন করা কঠিন হতে পারে।
আসন্ন ম্যাচগুলোর প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা ভারতের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে শর্তাবলী অনুযায়ী প্রশিক্ষণ সেশনের পরিকল্পনা করেছে। কোচিং স্টাফও ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছেন।
সর্বশেষে, আইসিসি এবং বিসিবি উভয়ই টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা এবং সকল দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ভবিষ্যতে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে তা টুর্নামেন্টের শিডিউল ও ভেন্যু পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে, যা ভক্ত ও খেলোয়াড় উভয়েরই প্রত্যাশা।



