নাইজার সরকার ৬ জানুয়ারি প্রকাশিত বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, মালি দেশে জিহাদি গোষ্ঠীর হুমকির কারণে জ্বালানি সরবরাহে অস্বীকৃতি জানানো ট্রাক চালক ও পরিবহন সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে মালি-নাইজার সীমান্তে চলমান জ্বালানি অবরোধ, যা আল-কায়েদা শাখা জিএনআইএম (Jama’at Nusrat al-Islam wal-Muslimin) দ্বারা আরোপিত।
মালি, যা ভূমি-আবদ্ধ দেশ, তার জ্বালানি চাহিদা পূরণে নিকটবর্তী দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। জুলাই মাসে নাইজার ও মালি ৬ মাসের মধ্যে ৮৫ মিলিয়ন লিটার জ্বালানি সরবরাহের চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে নাইজার তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে একই সময়ে জিএনআইএমের আক্রমণ ও অবরোধের ফলে প্রধান হাইওয়েতে জ্বালানি ট্যাঙ্কারগুলোকে নিয়মিত হুমকির মুখে রাখতে বাধ্য হয়েছে।
নাইজার থেকে মালি পর্যন্ত ১,৪০০ কিলোমিটার (৮৭০ মাইল) দীর্ঘ রুটে জ্বালানি কনভয়গুলোকে সামরিক সঙ্গের সঙ্গে চলতে হয়, তবু জিহাদি গোষ্ঠীর আক্রমণ, চালক অপহরণ এবং ট্রাক পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। গত নভেম্বর নাইজার ৮২টি জ্বালানি ট্যাঙ্কার মালিতে পৌঁছে দেয়, যা সাম্প্রতিক অবরোধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি সরবরাহকে কিছুটা স্থিতিশীল করে। একই সময়ে সেনেগাল ও আইভরি কোস্ট থেকে আসা কনভয়গুলোও আক্রমণের শিকার হয়েছে।
অবশিষ্ট মাসগুলোতে অতিরিক্ত জ্বালানি শিপমেন্টের পরিকল্পনা ছিল, তবে চালক ও পরিবহন সংস্থার অস্বীকৃতির ফলে এই পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। নাইজারের পরিবহন মন্ত্রণালয় ১৪টি পরিবহন সংস্থা এবং ১৯জন চালকের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া আরেকটি সংস্থার লাইসেন্স এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে তাদের পরিবহন নথি ও লাইসেন্স মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবহন মন্ত্রী আবদুরাহামান আমাদৌ এই পদক্ষেপকে “আইনি ও নিয়ন্ত্রক দায়িত্বের গুরুতর লঙ্ঘন” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সরবরাহে অস্বীকৃতি দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ক্ষতি করে এবং তা অবিলম্বে সংশোধন করা প্রয়োজন।
জিএনআইএমের অবরোধ কেবল জ্বালানি সরবরাহই নয়, মালির উত্তরাঞ্চলের বিশাল মরুভূমি অঞ্চলে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে তীব্রতর করেছে। গোষ্ঠীটি অতীতে চালক অপহরণ, ট্রাক পুড়িয়ে দেওয়া এবং জ্বালানি শিপমেন্টে বাধা সৃষ্টি করে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। গত বছর মালির স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্বালানি সংকটের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল।
নাইজার ও মালি উভয়ই সামরিক জুন্তা শাসনের অধীনে রয়েছে, যা জিহাদি হুমকির মোকাবেলায় সমন্বিত কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। নিকটবর্তী দেশগুলোও একই রকম হুমকির সম্মুখীন হওয়ায়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমন্বয় অপরিহার্য।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, নাইজার যদি চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তবে ভবিষ্যতে জ্বালানি শিপমেন্টে আরও বড় বাধা দেখা দিতে পারে, যা মালির জ্বালানি ঘাটতি বাড়িয়ে তুলবে এবং অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলবে।
এদিকে, নাইজার সরকার জিএনআইএমের আক্রমণ মোকাবেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি, জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প রুট ও সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। তবে এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে সময় ও সম্পদের প্রয়োজন হবে, যা অঞ্চলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল।
সারসংক্ষেপে, জিহাদি গোষ্ঠীর অবরোধের ফলে নাইজার মালিতে জ্বালানি সরবরাহে অস্বীকৃতি জানানো চালক ও সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপ করেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য একটি সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অবরোধের পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়বে।



