মালাভিকা মোহনান, যিনি প্রভাসের সঙ্গে ‘দ্য রাজা স্যাব’ ছবিতে প্রধান ভূমিকা পালন করছেন, সম্প্রতি নিজের ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত শেয়ার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে সাত বছর আগে তার মায়ের ফেং শুই রীতি অনুসরণ করে তিনি একটি বিশেষ টার্টল (কচ্ছপ) এর মধ্যে নিজের ইচ্ছা লিখে রেখেছিলেন, যা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
‘দ্য রাজা স্যাব’ ছবিটি প্রভাসের সঙ্গে তার প্রথম যৌথ প্রকল্প এবং ইতিমধ্যে মুক্তির প্রস্তুতিতে রয়েছে। ছবির প্রচার ও রিলিজের দিকে অগ্রসর হওয়ায় মালাভিকার এই স্বপ্নের পূর্ণতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার পারফরম্যান্স ও প্রভাসের সঙ্গে স্ক্রিনে জোড়া দর্শকদের দৃষ্টিতে নতুন আলো ফেলবে।
মালাভিকার মা দীর্ঘদিন ধরে ট্যারো, প্রাণিক শিকিত্সা এবং ফেং শুইয়ের মতো আধ্যাত্মিক পদ্ধতিতে আগ্রহী ছিলেন। প্রায় সাত বছর আগে, তিনি একটি ফেং শুই রীতি সম্পন্ন করেন যেখানে একটি ছোট কচ্ছপের ভেতরে ইচ্ছা লিখে তা সংরক্ষণ করা হয়। সেই সময়ে মালাভিকা এই কচ্ছপে নিজের একটি বড় স্বপ্ন লিখে রাখেন এবং পরে তা ভুলে যান।
সম্প্রতি, তার মা কচ্ছপটি আবার খুঁজে পেয়ে মালাভিকাকে জিজ্ঞেস করেন তিনি কী লিখেছিলেন। মালাভিকা তখনই স্মরণ করেন যে তিনি প্রভাসের সঙ্গে একটি চলচ্চিত্রে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এই ইচ্ছা তখন তার জন্য কেবল একটি স্বপ্ন ছিল, কিন্তু এখন তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
মালাভিকা জানান, তিনি ‘বাহুবলি’ চলচ্চিত্র দেখার পর প্রভাসের ক্যারিয়ারকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছিলেন। সেই সময়ে প্রভাসের পারফরম্যান্স তাকে অনুপ্রাণিত করে, এবং তিনি স্বপ্ন দেখেন যে একদিন তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবেন। যদিও সেই স্বপ্ন তৎক্ষণাৎ পূরণ হয়নি, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নেয়।
ইচ্ছা পূরণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে চলে না। “এটি তৎক্ষণাৎ ঘটেনি, তবে নিজের ইচ্ছা সঠিক সময়ে প্রকাশ পায়,” তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ইচ্ছা প্রকাশের পর তা স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে দেয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মালাভিকা এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন যে বিশ্বাস, ধৈর্য এবং সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করলে সুযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসে। তিনি যোগ্যতা ও পরিশ্রমের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের ভূমিকা তুলে ধরেছেন, যা তাকে এই মুহূর্তে পৌঁছে দিয়েছে।
এই গল্পটি তার ক্যারিয়ারের ব্যক্তিগত দিককে উন্মোচন করে, যেখানে আধ্যাত্মিক অনুশীলন এবং বাস্তব কাজের সমন্বয় ঘটেছে। তিনি বলছেন, স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে কেবল ইচ্ছা নয়, বরং তা ধারাবাহিকভাবে অনুসরণ করা দরকার।
অবশেষে, মালাভিকা পাঠকদের জন্য একটি ছোট পরামর্শ রেখে যান: নিজের লক্ষ্য স্পষ্টভাবে লিখে রাখুন, তা নিয়মিত স্মরণ করুন এবং ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সঠিক সুযোগ এসে পৌঁছাবে, যেমন তার ক্ষেত্রে হয়েছে।



