চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগরে গত রাত ১১ টার দিকে গৃহীত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার লক্ষ্যে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংলগ্ন একটি ফার্মেসি থেকে ৫০ বছর বয়সী শামসুজ্জামান (ডাবলু) নামের ব্যক্তি আটক করা হয়। তিনি স্থানীয় বিএনপি দলের সাধারণ সম্পাদক এবং হাফিজা ফার্মেসি পরিচালনা করতেন।
অভিযানকালে তল্লাশি করে ৯ মিমি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা হঠাৎ খারাপ হয়ে অচেতন হওয়ায় তাকে দ্রুতই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় রাত ১২ টা ২৫ মিনিটে উপস্থিত চিকিৎসক শামসুজ্জামানের মৃত্যু ঘোষণা করেন।
আইএসপিআর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক এবং কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তৎকালীন ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডারসহ অভিযানে অংশগ্রহণকারী সব সেনা সদস্যকে অবিলম্বে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির সঠিক কারণ উদ্ঘাটনের জন্য একটি উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গঠনকৃত তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুসারে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
শামসুজ্জামান স্থানীয় বিএনপি দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং তার ব্যবসা হাফিজা ফার্মেসি নামে পরিচিত। তিনি আটক হওয়ার পর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে, বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গভীর রাতেই রাস্তায় নেমে এসে হাসপাতালের সামনের সড়কে অগ্নিকুণ্ডে জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেন। তারা শামসুজ্জামানের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ডের সমতুল্য দাবি করে শাস্তির দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান শোনায়।
প্রতিবাদকারীরা জানিয়েছেন যে, তারা অবৈধ অস্ত্রের সন্ধানে পরিচালিত অভিযানের ফলে ঘটিত এই মৃত্যুকে নিন্দা করছেন এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে, নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো অতিরিক্ত হিংসা বা বিশৃঙ্খলা রিপোর্ট করা হয়নি।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘটনাটির তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হবে। তদন্ত কমিটির কাজের মধ্যে আটককৃত ব্যক্তির স্বাস্থ্য অবস্থা, অস্ত্রের উত্স এবং অভিযানের সময় প্রয়োগিত প্রোটোকল বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরিস্থিতি শীতল রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে গোয়েন্দা তথ্যের যথাযথ বিশ্লেষণ ও আইনি প্রক্রিয়ার কঠোরতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, চুয়াডাঙ্গা জীবনের গাঁয়ে সংঘটিত এই দুর্ঘটনা সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, আইনি দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার মেলবন্ধনকে নতুনভাবে পরীক্ষা করে। তদন্তের ফলাফল ও আইনি পদক্ষেপের পরিধি দেশের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



