চট্টগ্রামের নিউ মোরিং কন্টেইনার টার্মিনালের (NCT) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং চুক্তি ডিপ ওয়ার্ল্ডকে প্রদান করার বৈধতা নিয়ে দায়ের করা রিট পিটিশনে হাইকোর্ট আজ তিনটি সংগঠনকে তাদের যুক্তি উপস্থাপনের অনুমতি দিল। আদালত এই সিদ্ধান্তে বিচারপতি জাফর আহমেদ নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের অনুমোদন প্রকাশ করেছে, যা মামলার পরবর্তী ধাপকে স্পষ্ট করেছে।
বেঞ্চের আদেশে বন্দর পরিচালনা সংস্থা শহদাত হোসেন, ডক কর্মী নেতা তসলিম উদ্দিন সেলিম এবং ছাত্র সংস্থা স্টুডেন্টস্ সারভাইভরিটি-কে তাদের আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ আশিম, সাকেব মাহবুব এবং এ.কে.এম. ফয়েজের মাধ্যমে যুক্তি উপস্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই তিনটি সংগঠন কন্টেইনার হ্যান্ডলিং চুক্তির স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গততা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে।
রিট পিটিশনের মূল আবেদনকারী, বাংলাদেশ যুব আর্থনীতিবিদ ফোরাম, তাদের আইনজীবী মি. আনোয়ার হোসেনের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে উল্লিখিত সব সংগঠন পিটিশনের পক্ষে যুক্তি দেবেন। ফোরামটি ডিপ ওয়ার্ল্ডকে চুক্তি প্রদান প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত টেন্ডার না দিয়ে সরাসরি অগ্রসর হওয়াকে অবৈধ বলে দাবি করে।
হাইকোর্টের বেঞ্চ আজকের শুনানির দ্বিতীয় দিন সম্পন্ন করে এবং মামলাটি ২০ জানুয়ারি, মঙ্গলবার পুনরায় শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছে। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আনিক আর. হক মামলাটির বিরোধী যুক্তি উপস্থাপন করেছেন, যা সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবে।
রিট পিটিশনটি মূলত বাংলাদেশ যুব আর্থনীতিবিদ ফোরাম দ্বারা দায়ের করা হয়েছিল, যা একটি দাতব্য সংস্থা। ৩০ জুলাই হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ কর্তৃপক্ষকে ডিপ ওয়ার্ল্ডকে উন্মুক্ত টেন্ডার ছাড়া চুক্তি প্রদানকে অবৈধ ঘোষণা না করার কারণ ব্যাখ্যা করতে আদেশ দেয়। এই আদেশটি চুক্তির স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সূচনা করে।
গত বছর ডিসেম্বর মাসে তখনকার চিফ জাস্টিস সাইয়দ রেফাত আহমেদ মামলাটি বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য পাঠান। দুইজন বিচারকের বেঞ্চে ৪ ডিসেম্বর একটি ভিন্নমতপূর্ণ রায় প্রকাশিত হয়, যার ফলে চিফ জাস্টিসের অফিস ১৭ ডিসেম্বর বিষয়টি জাফর আহমেদ বেঞ্চে পাঠায়।
সেই ভিন্নমতপূর্ণ রায়ে বিচারপতি ফাতেমা নাজিব সরকারকে ডিপ ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া শুরু করা অবৈধ বলে ঘোষণা করেন, আর তার সহকর্মী বিচারপতি ফাতেমা আনওয়ার পিটিশনটি প্রত্যাখ্যান করেন। এই দ্বিমতপূর্ণ রায় মামলাটির জটিলতা ও আইনি দিকের তীব্রতা প্রকাশ করে।
বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চ পরে উক্ত ভিন্নমতপূর্ণ রায়সহ মামলাটি চিফ জাস্টিসের কাছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পাঠায়। আদালতের এই পদক্ষেপটি বিষয়টির আইনি স্পষ্টতা ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, NCT-তে ডিপ ওয়ার্ল্ডের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং চুক্তি দেশের বন্দর অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস সেক্টরের জন্য বড় অর্থনৈতিক প্রভাব রাখে। চুক্তির বৈধতা নিয়ে চলমান আইনি চ্যালেঞ্জ পোর্টের কার্যক্রমে বিলম্ব, বিনিয়োগকারীর আস্থা হ্রাস এবং সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, যদি আদালত চুক্তিকে বৈধ বলে নিশ্চিত করে, তবে ডিপ ওয়ার্ল্ডের মতো বহুজাতিক কোম্পানির অংশগ্রহণ চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিকীকরণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। আদালতের ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত পুনরায় শুনানি দেশের টেন্ডার নীতি, বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ এবং বন্দর ব্যবস্থাপনা কাঠামোর ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল চাবিকাঠি হবে।



