একজন বাংলাদেশি তরুণের যুক্তরাজ্যে স্থানান্তরের গল্প, যেখানে কোভিড-১৯ মহামারীর শীর্ষে ভ্রমণ, পরিবারের সহায়তা এবং নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
ব্রিটেনের পথে রওনা হওয়ার আগের রাতের দৃশ্যটি স্মরণীয়: বসার ঘরটি অস্বাভাবিকভাবে সংকীর্ণ লাগছিল, অর্ধেক ভরা স্যুটকেসগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে ছিল, যেন সেগুলিও জানত না কোথায় যাবে। প্যাকিংয়ে সাহায্য করতে বাবা, মা ও ভাই একসাথে বসে ছিলেন, যা তার জীবনের গড়ে তোলা ভিত্তি ও সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে পরিবারের ভূমিকা প্রকাশ করে।
তাঁর প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়া এক আশ্চর্যজনক ঘটনা ছিল। কোভিড-১৯ এর শীর্ষ সময়ে, যখন কোনো টিকা উপলব্ধ ছিল না, তখনই তিনি ভ্রমণ সম্পন্ন করেন। প্রস্থান পূর্বে করা সব স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ করে কোভিড টেস্ট, নেগেটিভ ফলাফল দেখায়, যা তার নিরাপদ যাত্রার নিশ্চয়তা দেয়।
ইউকে-র প্রথম দিন, ডরমিটরিতে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তিনি এক ধরনের শূন্যতা ও নিঃশব্দতা অনুভব করেন। ঘরের চারপাশের নীরবতা এতটাই তীব্র ছিল যে নিজের শ্বাসের শব্দও স্পষ্ট শোনা যায়। জীবনের সবসময় গুঞ্জনময় রাস্তায় গাড়ির হর্নের শব্দের অভাব তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি একাকীত্বের সাথে মানিয়ে নিতে শিখেন। নিয়মিত রুটিন গড়ে তোলার মাধ্যমে মনকে স্থিতিশীল রাখেন এবং নতুন বন্ধুদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যারা পরে পরিবারের সমতুল্য হয়ে ওঠে। কোয়ারেন্টাইন শেষ হওয়ার পর, ধীরে ধীরে তিনি কোন রাস্তা নিরাপদ, কোন ক্যাফে পরিচিত এবং কঠিন মুহূর্তে কার ওপর নির্ভর করা যায় তা জানেন। অপরিচিত স্থানগুলো শেষ পর্যন্ত তার সবচেয়ে পরিচিত জায়গা হয়ে ওঠে।
নতুন জীবনে স্থাপিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘরে থাকা পরিবারকে ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে তাদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখেন। এসব শেয়ার করা মুহূর্তের মাধ্যমে তিনি এবং তার পরিবার ভবিষ্যতে একসাথে ভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন, যা দূরত্বের বাধা কমিয়ে দেয়।
এই অভিজ্ঞতা তার আত্মনির্ভরতা ও দ্বৈত পরিচয়ের গঠনকে ত্বরান্বিত করে। তিনি নিজেকে আরও স্বাধীন ও স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলেন, একই সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে তার বন্ধন অটুট থাকে। নতুন পরিবেশে গড়ে তোলা বন্ধুত্ব ও অভ্যাসগুলো তার জীবনের নতুন স্তর যোগায়।
আজও তিনি যুক্তরাজ্যের শহুরে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে বাংলাদেশের স্মৃতি ও পরিবারের স্নেহকে হৃদয়ে বহন করেন। দূরত্বের পরেও তার জীবনের দু’প্রান্তে থাকা এই দুই জায়গা একে অপরকে সমৃদ্ধ করে, যা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বপ্নকে সমর্থন করে।



