19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসিআইডি চালু করল নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুর জন্য টোল‑ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ ও...

সিআইডি চালু করল নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুর জন্য টোল‑ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ ও মুন অ্যালার্ট ব্যবস্থা

ঢাকা—পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মঙ্গলবার সিআইডি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার লক্ষ্যে টোল‑ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ চালু করার ঘোষণা দিল। এই নম্বরটি কোনো খরচ ছাড়াই যে কোনো সময়ে কল করা যাবে, এবং তৎক্ষণাৎ তথ্য গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হেল্পলাইনটি বিশেষভাবে শিশু সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য, যেমন হারিয়ে যাওয়া, অপহরণ বা সন্দেহজনক পরিস্থিতি, তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে তৈরি। কলের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যকে দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

১৩২১৯ ছাড়াও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এবং সিআইডি মিসিং চিলড্রেন সেল নম্বরেও একই ধরণের তথ্য প্রদান করা যাবে। একাধিক হটলাইন সমন্বয় করে তথ্য সংগ্রহের পরিধি বাড়িয়ে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে।

একই সময়ে সিআইডি ‘মুন অ্যালার্ট’ নামে একটি জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করেছে, যা প্রথমবারের মতো নিখোঁজ শিশুর জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। তথ্য যাচাইয়ের পর ঝুঁকি মূল্যায়ন করে এই সতর্কতা সংশ্লিষ্ট সকল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হবে।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান, বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের পরিচালক, সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা শাখার অতিরিক্ত পরিচালক এবং অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশের আহ্বায়ক। সকল অংশগ্রহণকারী উদ্যোগের গুরুত্ব ও সমন্বয়কে স্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ উল্লেখ করেন, হেল্পলাইন ও মুন অ্যালার্টের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য দ্রুত যাচাই করে জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং শিশুর মর্যাদা বজায় রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

হেল্পলাইনটি দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে, রাত-দিন যেকোনো সময়ে কল করা যাবে। ভবিষ্যতে অন্যান্য পুলিশ হটলাইনকে এই সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে নিখোঁজ শিশুর সন্ধান দ্রুততর হয়।

প্রাপ্ত তথ্য ও সতর্কবার্তা সিআইডি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন ও অফলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল বিলবোর্ড, ব্যাংকের এটিএম বুথ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এসএমএসের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে। এই বহুমাধ্যমিক প্রচার ব্যবস্থা জনসাধারণকে দ্রুত অবহিত করতে সহায়তা করবে।

প্রক্রিয়ার পুরো ধাপে শিশুর গোপনীয়তা, নিরাপত্তা এবং সম্মান রক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তথ্য সংগ্রহের সময় ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখা এবং প্রকাশের আগে যথাযথ অনুমোদন নিশ্চিত করা হবে।

যদি কোনো তথ্য আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রমের সম্ভাবনা বা শিশু পাচারের ইঙ্গিত দেয়, তবে সিআইডি ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘ইয়েলো নোটিশ’ জারির ব্যবস্থা করবে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সন্দেহভাজনকে দ্রুত সনাক্ত ও আটক করতে সহায়তা করবে।

সিআইডি এছাড়াও ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেন (এনসিএমইসি) ও ফেসবুকের সহায়তায় অ্যাম্বার অ্যালার্ট সিস্টেম চালু করবে। জিরো মিসিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্যের প্রবাহ বাড়িয়ে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে সিআইডি নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুর সন্ধানে প্রযুক্তি, জনসচেতনতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয় ঘটিয়ে কার্যকর সমাধান প্রদান করতে চায়। ভবিষ্যতে হেল্পলাইন ও মুন অ্যালার্টের ব্যবহার বাড়িয়ে দেশের শিশু সুরক্ষার কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments