মানিকগঞ্জের ২৫০ শয্যার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রাতের বেলা নিরাপত্তা সন্ধানে আশ্রয় নেওয়া ১৬ বছর বয়সী গৃহবধূকে দুই আনসার সদস্যের দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার বাদী হলেন ভুক্তভোগীর মা নারগিছ আক্তার, আর অভিযুক্ত দুইজন হলেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আওতিয়াপাড়া গ্রামের ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ এবং টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা পূর্বপাড়া গ্রামের ২৯ বছর বয়সী শাহাদাত হোসেন।
গৃহবধূ এবং তার স্বামী রাত্রিকালীন যাত্রায় নারায়ণগঞ্জ থেকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় গিয়ে, বিকেল তিনটার দিকে ভ্যানের ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ায় নানার বাড়িতে পৌঁছায়। রাত ১২টায় ভ্যানের ব্যাটারি সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ায়, দম্পতি নিরাপত্তার আশায় হাসপাতালের বাসস্ট্যান্ডের কাছাকাছি অবস্থিত জরুরি বিভাগের সামনে একটি গাছের নিচে আশ্রয় নেয়।
হাসপাতালের নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্ত আনসার সদস্য শাহাদাত হোসেন ও আবু সাঈদ গৃহবধূকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় নিয়ে যায়। এরপর গৃহবধূকে দুজনের দ্বারা শারীরিক হিংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। গৃহবধূয়ের শারীরিক পরীক্ষা হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে এবং তাকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে গৃহবধূকে জরুরি সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং তার স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল। একই সময়ে হাসপাতালের রোগীদের স্বজনদের সহযোগিতায় দুজন আনসার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
স্থানীয় পুলিশ, ভুক্তভোগীর পরিবার এবং হাসপাতালের সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূর মা বাদী হয়ে রোববার রাতে গৃহবধূয়ের ওপর আক্রমণ ঘটার পরপরই মামলাটি দায়ের করা হয়। মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক মামলার নথি প্রস্তুত করে, অভিযুক্তদের আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে দুজন অভিযুক্তকে মানিকগঞ্জ সদর আদালতে উপস্থিত করা হয়। আদালতে গৃহবধূকে ২২ ধারা (জবানবন্দি) অনুযায়ী জমানত আরোপের আদেশ দেওয়া হয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা চলবে।
হাসপাতালের নিরাপত্তা দায়িত্বে নিযুক্ত দুজন আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তের পর, মানিকগঞ্জ জেলা কমান্ড্যান্ট মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন যে, সত্যতা যাচাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে দুজনকে আনসার বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো ব্যক্তির দোষ বাহিনী নেবে না এবং দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
বহিষ্কারের পাশাপাশি, দুজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি গঠন করে ঘটনাস্থল, হাসপাতাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, গৃহবধূকে ২২ ধারা (জবানবন্দি) অনুযায়ী জমানত আরোপের পাশাপাশি, ধর্ষণ সংক্রান্ত ধারা অনুযায়ী অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। আদালত মামলাটি শোনার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি নির্ধারণের জন্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করবে।
এই ঘটনার পর, মানিকগঞ্জের স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও হাসপাতালের নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।



