সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামো প্রস্তুত করতে পে‑কমিশন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার সচিবালয়ের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের পর প্রশ্নের জবাবে জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, কমিশন বর্তমানে বিষয়টি বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে একটি বাস্তবিক (সাবস্টেনটিভ) প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে, তবে তা বাস্তবায়নের দিকটি আলাদা বিষয়।
বৈঠকে সাংবাদিকের প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে বললেন, “আমি রিপোর্ট পেলেই জানাব, বাস্তবায়নের ব্যাপারটা অন্য কিছু।” এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি কমিশনের কাজের ধারাবাহিকতা এবং রিপোর্টের সময়সীমা সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করে, “কবে প্রতিবেদন জমা হবে তা এখনো পরিষ্কার নয়” বলে মন্তব্য করেন।
পে‑কমিশনটি গত বছর ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে গঠিত হয় এবং তাকে ছয় মাসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সালেহউদ্দিনের মতে, কমিশনের কাজ থেমে নেই; তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে তথ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন কমিটির সঙ্গে ওপেন ইন্টারঅ্যাকশন এবং প্রতিনিধিত্বমূলক মতামত সংগ্রহে ব্যস্ত।
নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায়, জাতীয় বেতন কমিশনের পূর্ণ সভা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের অধীনে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার সম্ভাবনা নেই। এর ওপর সালেহউদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, “গভর্নরের পে স্কেল নিয়ে কোনো ভূমিকা নেই; পে স্কেল সম্পূর্ণভাবে সরকারের দায়িত্ব।” তিনি আরও যোগ করেন, গভর্নর তার ব্যাংক সংক্রান্ত বিষয়েই মন্তব্য করতে পারেন, তবে বেতন স্কেল তার দায়িত্বের মধ্যে না।
সালেহউদ্দিনের মন্তব্যের মধ্যে ইরান ও ভেনেজুয়েলা অস্থিরতা নিয়ে জ্বালানি সংকটের সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি জানিয়ে দেন, “এ বিষয়ে কোনো জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই,” এবং উল্লেখ করেন যে ভেনেজুয়েলা স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্বতন্ত্র।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পে‑কমিশনের নতুন বেতন কাঠামো প্রকাশের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের মুখে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “রিপোর্ট পাওয়া মাত্রই জানাব, বাস্তবায়ন আরেকটি ধাপ।” এভাবে তিনি রিপোর্টের প্রস্তুতি এবং বাস্তবায়নের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেছেন।
বৈঠকের শেষে তিনি উল্লেখ করেন, পে‑কমিশনের কাজের গতি থেমে নেই এবং তারা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে। তবে রিপোর্টের চূড়ান্ত জমা এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি সম্পর্কে সরকারী কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো শোনায়নি।
এই পরিস্থিতিতে পে‑কমিশনের কাজের অগ্রগতি এবং নতুন বেতন স্কেলের বাস্তবায়ন কীভাবে সরকারী নীতি ও আর্থিক কাঠামোকে প্রভাবিত করবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট আইনসভার অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, তা দেশের সরকারি কর্মচারী ও সাধারণ জনগণের জন্য প্রত্যাশার বিষয়।



