ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি – ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর যুব সংসদ মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে, যেখানে তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির জন্য ১৩টি জ্বালানি সংস্কার দাবি উপস্থাপন করেছে।
সম্মেলনে ক্যাবের যুব সংসদ আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বাতিলের দাবি জানায়, যা তারা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বার্থের ক্ষতি হিসেবে তুলে ধরেছে।
দাবিগুলোর মধ্যে দ্রুত বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ‑জ্বালানি সংশ্লিষ্ট বিশেষ বিধান আইন বাতিল, এবং সংশ্লিষ্ট রিট মামলাকে দ্রুত নিষ্পত্তি করার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত।
ক্যাবের তরফ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঐ আইন অনুযায়ী গৃহীত সব চুক্তি ও লাইসেন্স বাতিল করা উচিত, যাতে অপ্রয়োজনীয় ও অস্বচ্ছ চুক্তি থেকে সৃষ্ট ক্ষতি রোধ করা যায়।
ফার্নেস অয়েল ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা, এবং বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি খাতকে পুনরায় সেবা খাত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া তাদের আরেকটি মূল দাবি। এতে সরকারি সেবা মুনাফামুক্ত করে, খরচ‑ভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ নিশ্চিত করা হবে বলে তারা উল্লেখ করেছে।
দ্রুত জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণ উন্নয়নের মাধ্যমে পরবর্তী সরকারের মেয়াদে জীবাশ্ম জ্বালানির আমদানি কমপক্ষে ৫ শতাংশ হ্রাসের লক্ষ্যও তারা নির্ধারণ করেছে।
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে, পাঁচ বছরের মধ্যে গড়ে ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা তাদের তালিকায় রয়েছে; পাশাপাশি ছোট শিল্প হিসেবে সৌরশক্তি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বৃদ্ধিকে পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখা, এবং কয়লা‑ভিত্তিক বিদ্যুৎ ক্ষমতা বৃদ্ধিকে নিষিদ্ধ করার দাবি তাদের নীতি প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত।
গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের ব্যবহার সংক্রান্তভাবে, গণশুনানির ভিত্তিতে দেশীয় কোম্পানি ও গ্যাস বাপেক্সের মাধ্যমে শতভাগ অনুসন্ধান‑উত্তোলন নিশ্চিত করা, এবং পূর্ব ও ভোলা/দক্ষিণাঞ্চলের অব্যবহৃত গ্যাসের ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন চুক্তি থেকে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি পুনরুদ্ধার, এবং জ্বালানি খাতের দুর্নীতি ও অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে বিচার করার প্রস্তাবও তালিকায় রয়েছে।
ক্যাবের যুব সংসদ উল্লেখ করেছে যে, এই ১৩টি দফা ‘জ্বালানি রূপান্তর নীতি‑২০২৪’ এর আলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তারা আশাবাদী যে, আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এই দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত করবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষের দিকে তারা উল্লেখ করে, যদি এই দফাগুলো নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে অন্তর্ভুক্ত না হয়, তবে পরবর্তী পর্যায়ে জনসাধারণের চাপ ও আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।



