22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধচুয়াডাঙ্গা জিবন্নগর জেলায় বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দাবলু হেফাজতে মৃত্যুবরণ

চুয়াডাঙ্গা জিবন্নগর জেলায় বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দাবলু হেফাজতে মৃত্যুবরণ

চুয়াডাঙ্গা জেলার জিবন্নগর পৌর ইউনিটের বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দাবলু হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। দাবলু রাতের সময় গৃহহীন জেলায় জিজ্ঞাসাবাদে ছিলেন এবং তার দেহ জেলাবাহিরে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছায়। ঘটনাটির পর স্থানীয় সমর্থক ও বাসিন্দারা প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে এবং তদন্তের দাবি জানায়।

জিবন্নগর থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ সোলাইমান শেখ জানান, দাবলুর দেহ আপাতত আপাজিলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংরক্ষিত এবং মৃতদেহের ওপর অটোসপি করার প্রস্তুতি চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেহের হস্তান্তর ও অটোসপি প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ পর্যন্ত দাবলুর মৃত্যুর জন্য কোনো অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়নি বলে একই সূত্রে জানানো হয়েছে। স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এখনো ফাইলিং প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হয়নি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার মোকবুল হোসেনের মতে, দাবলু রাত ১২:১৬ টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছায় এবং ইতিমধ্যে মৃত অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, দেহটি হসপিটালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার কোনো প্রচেষ্টা করা হয়নি।

দাবলুর স্ত্রী জেসমিন নাহার দাবি করেন, তার স্বামীকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সামরিক কর্মীরা দাবলুকে তার ফার্মেসি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। তার মতে, এই ঘটনার পেছনে কোনো স্বার্থমূলক উদ্দেশ্য রয়েছে।

স্থানীয় শ্রমিক দল নেতা শফিকুল ইসলাম খোকা জানান, দাবলু হাফিজা ফার্মেসি—যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত—এর মালিক ছিলেন। তিনি বলেন, রাত ১০:১৫ টার দিকে সামরিক কর্মীরা ফার্মেসি থেকে দাবলুকে তুলে নিয়ে প্রায় ৫০ মিটার দূরে বিএনপি পার্টি অফিসে নিয়ে যায়। খোকা সাংবাদিকদেরকে অফিসের একটি ঘর দেখিয়ে বলেন, সেখানে দাবলুকে প্রায় দুই ঘন্টা ধরে শারীরিক হিংসা করা হয় এবং একটি কাপড় তার মুখে জোর করে ঢোকানো হয়।

চুয়াডাঙ্গা সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানান, দাবলু জিজ্ঞাসাবাদের সময় শারীরিকভাবে অস্বস্তি বোধ করেন এবং অপারেশন চলাকালীন তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে। তিনি বলেন, দাবলুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। এই তথ্যটি লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরানের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।

চুয়াডাঙ্গা ডিপুটি কমিশনার ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন উল্লেখ করেন, সামরিক বাহিনী প্রশাসনকে জানিয়েছে দাবলু হৃদরোগে মারা গেছেন। তবে স্থানীয় মানুষদের মতে এটি হত্যাকাণ্ডের ফলাফল। তিনি জানান, যদি হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায় তবে সর্বোচ্চ স্তরের সরকারকে অবহিত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বর্তমানে দেহের অটোসপি সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে এবং ফলাফল অনুসারে ফৌজদারি তদন্ত চালু হবে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ উভয়ই ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা সব প্রমাণ সংরক্ষণ করে রেখেছে এবং আদালতে উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দাবলুর মৃত্যু নিয়ে স্থানীয় বিএনপি কর্মী ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় সশস্ত্র না হয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা হেফাজতে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, শামসুজ্জামান দাবলুর মৃত্যুর কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তদন্তের অগ্রগতি, অটোসপি ফলাফল এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে কীভাবে গড়ে উঠবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments