22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিভারত পুনরুজ্জীবিত করছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পাঁচটি পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ, বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার

ভারত পুনরুজ্জীবিত করছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পাঁচটি পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ, বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার

ভারত সরকার সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে, বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নির্মিত পাঁচটি পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ পুনরায় চালু করা হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নত করা এবং কৌশলগত নিরাপত্তা শক্তিশালী করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিমানঘাঁটিগুলোকে জরুরি সামরিক ও বেসামরিক অপারেশনের জন্য প্রস্তুত করা হবে।

পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে অবস্থিত এই এয়ারস্ট্রিপগুলো হল: পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির আমবাড়ি ও পাঙ্গা, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, মালদাহের ঝালঝালিয়া এবং আসামের ধুবড়ি। পূর্বে কোচবিহার এবং আসামের রূপসী বিমানবন্দর সফলভাবে পুনরায় চালু করা হয়েছে, যা এই নতুন প্রকল্পের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

এই পুনরুজ্জীবনের মূল কারণ হল ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রাখে এমন সংকীর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা ‘চিকেনস নেক’ রক্ষা করা। এই করিডরটি দেশের কৌশলগত সংযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের নিম্ন স্তরে থাকায়, দিল্লি কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক নয়।

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন যে, বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট এয়ারস্ট্রিপের পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনা ভারতের সামরিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। লালমনিরহাট শিলিগুড়ি করিডরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত, ফলে ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এই প্রকল্পকে পুনরায় সক্রিয় করার একটি প্রধান প্রেরণা হিসেবে দেখছেন।

বাংলাদেশ সরকার এয়ারস্ট্রিপের ব্যবহার শুধুমাত্র জাতীয় প্রয়োজনে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে। তবে ভারতীয় সূত্রের মতে, সীমান্তে যেকোনো আকস্মিক ঘটনার মোকাবিলায় এই বিমানঘাঁটিগুলোকে সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এ ধরনের প্রস্তুতি দ্রুত সেনা মোতায়েন এবং জরুরি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এয়ারস্ট্রিপের পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের সীমান্তবর্তী এলাকায় ‘লাচিত বরফুকন’ নামে তিনটি নতুন সেনা ঘাঁটি গড়ে তোলা হয়েছে। এই ঘাঁটিগুলো এবং পুনরায় চালু করা এয়ারস্ট্রিপগুলো একসাথে সামগ্রিক সামরিক প্রস্তুতির একটি অংশ গঠন করে, যা সীমান্তে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার জন্য পরিকল্পিত।

এয়ারপোর্টস অথোরিটি অব ইন্ডিয়া (এএআই) পশ্চিমবঙ্গের সংশ্লিষ্ট বিমানক্ষেত্রের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের হাতে হস্তান্তর করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, ভারত চায় এই রানওয়ে গুলো সর্বদা জরুরি অপারেশনের জন্য প্রস্তুত থাকে, যাতে সংকটের সময় দ্রুত সেনা ও রসদ সরবরাহ করা যায়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনর্নির্মিত এয়ারস্ট্রিপগুলোকে সম্পূর্ণ কার্যকরী করা হবে এবং প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ও লঘু বিমান চালু করা সম্ভব হবে। এয়ারস্ট্রিপের অবকাঠামো উন্নয়নে রানওয়ে মেরামত, লাইটিং সিস্টেম স্থাপন এবং যোগাযোগ সুবিধা বাড়ানো অন্তর্ভুক্ত।

এই পদক্ষেপের ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উপর প্রভাব পড়তে পারে। একদিকে, ভারত নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করতে হবে যে এয়ারস্ট্রিপগুলো কেবলমাত্র জাতীয় ব্যবহারের জন্যই থাকবে। উভয় দেশের কূটনৈতিক সংলাপের পরিধি এই বিষয়টি নিয়ে পুনরায় মূল্যায়ন করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, ভারত পাঁচটি পুরনো এয়ারস্ট্রিপ পুনরায় চালু করার মাধ্যমে শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্যোগটি সীমান্তে সামরিক প্রস্তুতি বাড়াবে, পাশাপাশি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করবে। ভবিষ্যতে এয়ারস্ট্রিপগুলো সম্পূর্ণ কার্যকরী হলে, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments