জন নেটা, থালাপতি ভিজয়ের শেষ ছবিরূপে ব্যাপক প্রত্যাশা পেয়ে, বর্তমানে কেন্দ্রীয় সিভিল ফিল্ম সার্টিফিকেশন বোর্ডের (CBFC) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত ট্রেলার ও প্রচারমূলক উপকরণগুলো দর্শকদের উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে তুললেও, সিসার সার্টিফিকেট না পাওয়ায় মুক্তির তারিখ অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
এই অস্থায়ী বাধার মুখে তামিলনাড়ু চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন স্তর একত্রিত হয়ে ভিজয়ের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করেছে। শিল্পের ভেতরে উদ্বেগের সুর থেকে সমষ্টিগত সুরে রূপান্তরিত হওয়া এই সমর্থন, ভিজয়ের ক্যারিয়ারের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের প্রতি বিশ্বাসকে পুনরায় জোরদার করেছে।
অভিনেতা সিলাম্বরাসন (সিম্বু) সামাজিক মাধ্যমে ভিজয়ের প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি উত্সাহজনক বার্তা শেয়ার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভিজয়ের পথে অতীতেও বহু বাধা অতিক্রান্ত হয়েছে এবং এই সাময়িক বিলম্ব তার সাফল্যের পথে কোনো বাধা নয়।
অভিনেতা রবি মোহন, জিয়াভা এবং জয়ও একইভাবে টুইটারে সমর্থনের ইঙ্গিত দেন। তাদের পোস্টগুলোতে ভিজয়ের দৃঢ়তা ও চলচ্চিত্রের গুণগত মানের প্রতি আস্থা প্রকাশ পায়, এবং তারা এই বিলম্বকে অস্থায়ী বলে উল্লেখ করেন।
প্রশংসক গোষ্ঠীর উদ্বেগের সুর ধীরে ধীরে শিল্পের সমষ্টিগত কণ্ঠে রূপান্তরিত হয়েছে, যেখানে ভিজয়ের কাজের প্রতি সম্মান ও তার ক্যারিয়ারের প্রতি অবিচল সমর্থন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
বিনোদন জগতের প্রবীণ অভিনেতা কামাল হাসানও সামাজিক মাধ্যমে সমর্থন জানিয়ে এই বিষয়কে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেন। তিনি সিসার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিকতার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃজনশীল স্বাধীনতা রক্ষার আহ্বান জানান।
পরিচালক পা. রঞ্জিথও একই সময়ে সিসার নীতিমালার স্পষ্টতা ও ন্যায়সঙ্গত প্রয়োগের দাবি তুলে ধরেন। তিনি চলচ্চিত্র শিল্পের স্বায়ত্তশাসন ও দর্শকের আস্থা বজায় রাখতে নীতিগত দিক থেকে সংস্কার প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেন।
পরিচালক রাম গোপাল ভার্মাও এই আলোচনায় যোগ দিয়ে, সৃজনশীল কাজের প্রতি সমাজের বিশ্বাস বাড়ানোর জন্য সিসার প্রক্রিয়ার উন্নয়ন অপরিহার্য বলে জোর দেন। তার মন্তব্যগুলো শিল্পের স্বায়ত্তশাসন ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে সমন্বয় রক্ষার আহ্বান হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই তিনজন প্রবীণ শিল্পীর মন্তব্য চলচ্চিত্রের সৃজনশীল স্বাধীনতা, দায়িত্ব এবং সিসার ন্যায়সঙ্গত প্রয়োগের বিষয়ে বৃহত্তর আলোচনার সূচনা করে। তারা একত্রে শিল্পের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার পাশাপাশি দর্শকের অধিকার সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
সমগ্র শিল্প জগতের এই সমন্বিত সমর্থনকে “বিলম্বিত কিন্তু পরাজিত নয়” বলে বর্ণনা করা হয়। ভিজয়ের চলচ্চিত্রের মুক্তি এখনও অনির্ধারিত থাকলেও, শিল্পীরা একসাথে প্রত্যাশা প্রকাশ করে যে, সিসার অনুমোদন পাওয়ার পর ছবিটি বড় স্ক্রিনে ফিরে আসবে।\n
অনেক ভক্তের মতে, যদি পংগল উৎসবের সময় মুক্তি পায়, তবে ছবির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে, শিল্পীরা প্রত্যাশা করছেন যে সিসার অনুমোদন দ্রুত হবে এবং চলচ্চিত্রটি দর্শকের সামনে আসবে।
জন নেটা ছবির সিসার সার্টিফিকেট প্রাপ্তির অপেক্ষা অব্যাহত থাকায়, শিল্পের সমর্থন ও সিসার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা তীব্রতর হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে এই বিষয়ের উপর আরও তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভিজয়ের ভক্ত ও চলচ্চিত্র শিল্প উভয়েরই মনোযোগের কেন্দ্রে থাকবে।



