বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, তার বয়সকে অগ্রাহ্য করে ১০০০টি অফিসিয়াল গোলের লক্ষ্যে অগ্রসর। বর্তমান পর্যন্ত তার গোলসংখ্যা ৯৫৮, যার জন্য আর মাত্র ৪২টি গোল দরকার।
ফুটবলের ইতিহাসে এখনো কোনো খেলোয়াড় চার অঙ্কের গোলসংখ্যা স্পর্শ করতে পারেনি; রোনালদোর এই প্রচেষ্টা তাকে অনন্য অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তার শারীরিক সক্ষমতা ও বর্তমান ফর্ম বজায় থাকলে, ২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুর দিকে এই মাইলফলক অর্জন করা সম্ভব বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
সম্প্রতি গ্লোব সকার অ্যাওয়ার্ডসের অনুষ্ঠানে রোনালদো তার লক্ষ্য নিয়ে মন্তব্য করেন, “আমি এখনও অনুপ্রাণিত, ভেতরের আগুন জ্বলছে, ট্রফি জিততে চাই এবং সেই ১০০০ গোলের সংখ্যা অর্জন করতে চাই।” এই বক্তব্য তার আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করে।
ক্লাব পর্যায়ে রোনালদো ইতিমধ্যে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, স্প্যানিশ লা লিগা এবং ইতালিয়ান সিরি আ জয় করেছেন। তবে সৌদি প্রো লিগের শিরোপা এখনও তার সংগ্রহে নেই। যদি আল-নাসরের হয়ে এই শিরোপা জিততে পারেন, তবে তিনি জুলিয়ান ইব্রাহিমোভিচ ও ডেভিড বেকহ্যামের মতো, যারা চারটি ভিন্ন দেশে লিগ শিরোপা জিতেছেন, তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চার দেশের লিগ শিরোপা অর্জনকারী একমাত্র খেলোয়াড় হবেন।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে রোনালদোর রেকর্ডের গতি থামছে না। ২০০৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপে তিনি গোল করেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে যদি তিনি কোনো গোল করেন, তবে তিনি প্রথম খেলোয়াড় হবেন, যিনি ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোলের নাম লিখবেন। তার দীর্ঘস্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ২০১০ বিশ্বকাপে গোল করতে পারেননি, ফলে রোনালদো এই ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে।
পেনাল্টি শুটিং ক্ষেত্রেও রোনালদো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি এখন পর্যন্ত ১৮০টি পেনাল্টি গোলের রেকর্ড ধারণ করেন, যা ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আর মাত্র ২০টি পেনাল্টি গোল যোগ করলে তিনি ২০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করবেন।
আল-নাসরে রোনালদোর পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তিনি শিরোপা জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন, পাশাপাশি পর্তুগালের ২০২৬ বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে তার উপস্থিতি দলের আক্রমণকে শক্তিশালী করবে। তার লক্ষ্য স্পষ্ট: গোলের সংখ্যা বাড়িয়ে ইতিহাসের নতুন শীর্ষে পৌঁছানো এবং আন্তর্জাতিক ও ক্লাব উভয় স্তরে নতুন রেকর্ড গড়ে তোলা।



