বয়স ৮৩ বছরেও বলিউডের কিংবদন্তি অমিতাভ বচ্চন শুটিং সেটে সক্রিয়, তার দৈনন্দিন রুটিন ও শারীরিক শৃঙ্খলা নিয়ে সহকর্মী রঞ্জিতের বর্ণনা প্রকাশ পেয়েছে।
অমিতাভের বয়স বাড়লেও কাজের গতি ও উদ্যমে কোনো হ্রাস দেখা যায় না; তিনি প্রায়ই সহকর্মীদের আগে সেটে পৌঁছে কাজ শুরু করেন। তার এই ধারাবাহিকতা নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য উদাহরণস্বরূপ।
রজনী রাত্রে শোয়া যাওয়ার আগে এবং সকালবেলায় ঘুম থেকে ওঠার পর তিনি একই রকম রুটিন অনুসরণ করেন। প্রতিটি রাতে তিনি কিছু লিখে রাখেন, আর সকালে গীতা পাঠের মাধ্যমে মনকে শুদ্ধ করেন। এই অভ্যাস তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখে।
সহকর্মী রঞ্জিত, যিনি অমিতাভের সঙ্গে ‘রেশমা অউর শেরা’ ছবিতে প্রথমবার কাজ করেছেন, তার সঙ্গে কাজের সময় এই রুটিন লক্ষ্য করেন। রঞ্জিতের মতে, অমিতাভের শৃঙ্খলা অস্বাভাবিক মাত্রার, যা তার ক্যারিয়ারের দীর্ঘায়ুতে বড় ভূমিকা রাখে।
‘সাত হিন্দুস্তানি’ ছবিতে প্রথম দেখা হওয়ার পর থেকে রঞ্জিত অমিতাভের সঙ্গে শুটিং টেন্টে একসাথে সময় কাটিয়েছেন। তিনি জানান, শুটিং চলাকালে অমিতাভের রুটিন দেখার পর কৌতুহল বাড়ে এবং তিনি নিজেও তা অনুসরণ করতে শুরু করেন।
রাত্রিকালীন লেখার বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে অমিতাভ উত্তর দেন, তিনি প্রতিদিন তার বাবা-মাকে চিঠি লিখেন। এই চিঠিগুলো তার পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় করে এবং মানসিক শান্তি প্রদান করে।
সকালের গীতা পাঠ তার দিন শুরু করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা তাকে আত্মিক শক্তি যোগায়। রঞ্জিত উল্লেখ করেন, এই নিয়মিত আচার অমিতাভকে শারীরিক ক্লান্তি অতিক্রম করতে সাহায্য করে।
শারীরিক কাজের ক্ষেত্রে অমিতাভ কোনো বাধা স্বীকার করেন না; তিনি ছোটখাটো টিলা থেকে লাফ দিয়ে শুটিংয়ে অংশ নেন এবং হিমালয় পর্বতে ট্রেকিংও করেন। তার এই উদ্যম তাকে তরুণ অভিনেতাদের সঙ্গে সমান স্তরে কাজ করতে সক্ষম করে।
গত দুই বছরে শুটিং সেটে কয়েকবার গুরুতর আঘাত পেয়েও অমিতাভ দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসেন। তিনি শারীরিক পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ যত্ন নেন এবং দ্রুত কাজের ফ্লোরে ফিরে আসেন।
তার শারীরিক প্রশিক্ষণ ভোর ৬টায় শুরু হয়; প্রথমে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ও প্রানায়াম করা হয়। এরপর কিছু যোগাসন এবং নির্দিষ্ট সময়ে ধ্যান করা হয়, যা তার শারীরিক শক্তি ও মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
এই রুটিনের কোনো ব্যতিক্রম দেখা যায় না; অমিতাভ প্রতিদিন একই সময়ে ব্যায়াম ও ধ্যানের মাধ্যমে নিজের স্বাস্থ্যের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন। তার শৃঙ্খলা তাকে দীর্ঘায়ু ও কর্মক্ষমতা প্রদান করে।
বহু প্রজন্মের অভিনেতার সঙ্গে কাজ করার সময়ও অমিতাভের কর্মদক্ষতা অপরিবর্তিত থাকে; তিনি তরুণদের সঙ্গে সমানভাবে শুটিংয়ে অংশ নেন এবং তাদেরকে অনুপ্রেরণা দেন।
অমিতাভের এই ধারাবাহিকতা ও শৃঙ্খলা তাকে আজকের দিনে বলিউডের শীর্ষে রাখে, এবং তার কাজের নীতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়।



