অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন অ্যালিসা হিলি, ৩৫ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তিনি ফেব্রুয়ারি‑মার্চে ভারতের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ওয়ানডে সিরিজে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন, এরপর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচে বিদায় নেবেন। টি‑টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নেবেন না, যাতে পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ তৈরি হয়।
হিলি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে শারীরিক আঘাত এবং মানসিক ক্লান্তি তাকে এই সিদ্ধান্তে বাধ্য করেছে। তিনি হালকা মেজাজে বলেন, “বিয়ে করা গলফে হেরে গেছি, তাই ক্রিকেটকে একটু দূরে রাখতে চাই।” তবে মূল কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময়ের চোট এবং মানসিক শূন্যতা, যা তাকে মাঠে নিজের সর্বোচ্চ দিতে বাধা দিচ্ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হিলি ১০টি টেস্ট, ১২৩টি ওয়ানডে এবং ১৬২টি টি‑টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। তার ক্যারিয়ারে ছয়টি টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় রয়েছে। তিনি আইসিসির দুইবারের জন্য টি‑টোয়েন্টি ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার এবং অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শৈলী নারী ক্রিকেটে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে এবং তাকে সত্যিকারের কিংবদন্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।
প্রায় দুই মাস আগে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে বিশ্বকাপ যাত্রা সেমিফাইনালে শেষ হয়। সেই সময়ে হিলির পরবর্তী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম ছিল, তবে টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত বিদায় নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। শেষ মুহূর্তে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, ঘরের মাঠে পরিবার ও সমর্থকদের সামনে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে বিদায় নেওয়াই শ্রেয়।
হিলি উল্লেখ করেন, “বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার দেহে পরিবর্তন অনুভব করছি, তবে তাড়না পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।” তিনি যোগ করেন, “মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মনোভাব নিয়ে লড়াই করা আমার জন্য সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।” তার শেষ টেস্ট ম্যাচে তিনি দলের জন্য শেষবারের মতো নেতৃত্ব দেবেন, এবং তার বিদায়ের পর দলকে নতুন মুখের সঙ্গে গঠন করা হবে।
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের মতে, হিলির অবসরের পর দলটি নতুন ক্যাপ্টেনের অধীনে পুনর্গঠন করবে এবং টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেবে। হিলি নিজে বলছেন, “আমি আশা করি আমার ছেড়ে যাওয়া সময়ে দলটি আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করতে পারবে।” তার ক্যারিয়ার শেষের দিকে এই সিদ্ধান্তটি ক্রীড়া জগতে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তবে তার অর্জন এবং প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে যাবে।
হিলির অবসরের ঘোষণার পর, অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেটে নতুন দিকনির্দেশনা গড়ে তুলতে হবে। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রেকর্ড এবং মনোভাব নতুন ক্যাপ্টেনের জন্য মানদণ্ড হয়ে থাকবে। হিলি শেষ পর্যন্ত তার ক্যারিয়ারকে গর্বের সঙ্গে শেষ করছেন, এবং তার বিদায়ের মুহূর্তে ভক্তদের সমর্থন ও প্রশংসা তার জন্য এক বড় সম্মান হয়ে থাকবে।



