ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত‑ই‑ইসলামির আমির, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গনম্যান নিয়োগের নির্দেশ পেয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সোমবার (১৩ জানুয়ারি) এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন। একই দিনে মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার নিরাপত্তা ঝুঁকি উচ্চমাত্রায় রয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমানকে গনম্যান প্রদান করার জন্য ১২ জানুয়ারি পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়। পত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। এই পত্রের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগী হয়।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনা করে তার বাসভবনে পোশাকধারী সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়েছে। গনম্যানের পাশাপাশি বাসস্থানে সশস্ত্র রক্ষাকর্তা উপস্থিত থাকবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ব্যবস্থা সাধারণত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্যই গ্রহণ করা হয়।
বিশেষ শাখা (এসবি) পূর্বে ডা. শফিকুর রহমানের নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বিশদ প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে সম্ভাব্য হুমকি ও তার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় গনম্যান নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
গনম্যানের নিয়োগের পেছনে মূল কারণ হল রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বিরোধী দলের নেতাদের ওপর সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা। জামায়াত‑ই‑ইসলামি দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক সংগঠন, এবং তার শীর্ষ নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারী দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গনম্যানের কাজ হবে ডা. শফিকুর রহমানের দৈনন্দিন চলাচল, বাসস্থান ও অফিসে নিরাপত্তা রক্ষা করা। তিনি প্রয়োজনীয় সময়ে সশস্ত্র রক্ষাকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে হুমকি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন। গনম্যানের উপস্থিতি নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্তরকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাময়িকভাবে গনম্যানের পাশাপাশি বাসভবনে পোশাকধারী সশস্ত্র পুলিশও মোতায়েন করা হবে। এই রক্ষাকর্তারা ডা. শফিকুর রহমানের বাড়ি ও অফিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পূর্বে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই দ্বিগুণ স্তর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে একটি সতর্কতা সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পদক্ষেপের ফলে জামায়াত‑ই‑ইসলামির অভ্যন্তরীণ গঠন ও নেতৃত্বের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় নেতার কার্যক্রমে কোনো বাধা না থেকে পার্টির রাজনৈতিক কৌশল ও নির্বাচনী প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
অন্যদিকে, সরকারী নিরাপত্তা নীতি অনুসারে অন্যান্য বিরোধী নেতাদেরও একই ধরনের রক্ষাকর্তা ব্যবস্থা প্রদান করা হতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পূর্বে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য গনম্যান ও সশস্ত্র রক্ষাকর্তা নিয়োগের উদাহরণ দেখিয়েছে। তাই এই সিদ্ধান্তকে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা নীতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যুক্তিযুক্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারী সংস্থাগুলোর সতর্কতা বাড়ছে। গনম্যানের নিয়োগের মাধ্যমে সরকার নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে ত্বরান্বিতভাবে সমাধান করতে চায়। এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গনম্যান ও সশস্ত্র রক্ষাকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। এ ধরনের ব্যবস্থা দেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করবে।
গনম্যানের নিয়োগ এবং বাসভবনে সশস্ত্র রক্ষাকর্তা মোতায়েনের মাধ্যমে ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, যা রাজনৈতিক পরিবেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।



