বোলিভুডের বিশিষ্ট পরিচালক রাজকুমার হিরানি এবং অভিনেতা আমির খান তাদের প্রত্যাশিত দাদাশেহেব ফালকে বায়োপিকের শ্যুটিং শুরু করার সময়সূচি পরিবর্তন করেছে। পূর্বে জানুয়ারি ২০২৬-এ চিত্রগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল, তবে এখন পরিকল্পনা অনুযায়ী মার্চের শেষের দিকে ক্যামেরা চালু হবে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল ধুনিরাজ গবিন্দ ফালকের (দাদাশেহেব ফালকে) জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে আধুনিক দর্শকের কাছে উপযুক্তভাবে উপস্থাপন করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য স্ক্রিপ্টে নতুন রিভিশন করা হচ্ছে, যাতে ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে সমসাময়িক আবেগের সুর মেলানো যায়।
স্ক্রিপ্টের বর্তমান খসড়া হিরানি ও খান উভয়ের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে চায়। এতে ফালকের যাত্রার বিশদ বিবরণ, তার চলচ্চিত্র জগতের সূচনা এবং ব্যক্তিগত সংগ্রামগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হবে। নতুন খসড়া ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে চূড়ান্ত করা হবে বলে ধারণা।
শুটিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হিরানি ও খান উভয়েই গল্পের হাস্যরস ও আন্তরিকতা দুটোই যথাযথভাবে প্রকাশের গুরুত্ব জোর দিয়েছেন। তারা চান যে চরিত্রের বিকাশের মাধ্যমে ফালকের বিশাল অবদানকে সম্মান জানানো হবে, পাশাপাশি দর্শকের হৃদয়ে স্পর্শ করবে এমন একটি বর্ণনা তৈরি হবে।
এই চলচ্চিত্রটি তৃতীয়বারের মতো হিরানি-আমিরের যৌথ কাজের অংশ। পূর্বে তারা “৩ ইডিয়টস” এবং “পি.কে.” মত বড়সড় হিট তৈরি করে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেছে। তাদের পুনর্মিলনটি শিল্পজগতের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল।
প্রকল্পের সূচনা আগে থেকেই উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে দেখা গিয়েছিল, তবে স্ক্রিপ্টের প্রাথমিক সংস্করণে কিছু সৃজনশীল অসন্তোষ দেখা গিয়েছিল। সেই কারণে শ্যুটিং সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল, যাতে গল্পের গঠন ও উপস্থাপনা আরও পরিপূর্ণ করা যায়।
নতুন রিভিশনের মাধ্যমে হিরানি ও খান উভয়েই গল্পের গতি, সংলাপের স্বর এবং দৃশ্যের রচনায় সমন্বয় সাধন করতে চেয়েছেন। তারা বিশ্বাস করেন যে এই পরিবর্তনগুলো চলচ্চিত্রকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলবে, একইসাথে ঐতিহাসিক সত্যকে অক্ষুণ্ণ রাখবে।
শুটিংয়ের স্থান ও সময়সূচি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে জানানো হয়েছে যে প্রস্তুতি কাজ ইতিমধ্যে চলমান। প্রযোজক দলটি ক্যাস্টিং, সেট ডিজাইন এবং প্রি-প্রোডাকশন কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে।
দাদাশেহেব ফালকে বায়োপিকের বিষয়বস্তু ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। ফালকের উদ্ভাবনী কাজগুলোকে আধুনিক কণ্ঠে তুলে ধরতে এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম।
শুটিং শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্ত ও শিল্প সমালোচকরা চলচ্চিত্রের গুণগত মান ও বর্ণনাশৈলীর প্রতি উচ্চ প্রত্যাশা রাখছেন। হিরানি-আমিরের যৌথ কাজের পূর্বের সাফল্যকে বিবেচনা করে এই বায়োপিকের জন্যও ইতিবাচক মনোভাব দেখা যায়।
প্রকল্পের আর্থিক দিক এবং বিতরণ পরিকল্পনা এখনও গোপন রাখা হয়েছে, তবে শিল্পের অভ্যন্তরে ইতিমধ্যে বিতরণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। চলচ্চিত্রটি বড় স্ক্রিনে মুক্তি পেলে বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, দাদাশেহেব ফালকে বায়োপিকের শ্যুটিং এখন মার্চের শেষের দিকে শুরু হবে, স্ক্রিপ্টের পুনর্লিখনের পর নতুন সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছে। হিরানি ও আমিরের যৌথ সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি এই প্রকল্পকে ঐতিহাসিক সত্যের সঙ্গে আধুনিক দর্শকের সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করবে।



