28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধসোনাগাজীর মহিলা জামায়াতের কোরআন ক্লাসে যুবদল নেতাদের হস্তক্ষেপ, ভোট চাওয়ার অভিযোগ

সোনাগাজীর মহিলা জামায়াতের কোরআন ক্লাসে যুবদল নেতাদের হস্তক্ষেপ, ভোট চাওয়ার অভিযোগ

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে রবিবার বিকেলে (১১ জানুয়ারি) একটি মহিলা জামায়াতের কোরআন ক্লাসে যুবদল নেতাদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। উপস্থিত যুবদল কর্মীরা ক্লাসে অশালীন ভাষা ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে অনাদরপূর্ণ আচরণ করেন এবং একজনের মোবাইল ফোন ছুঁড়ে ফেলেন। ক্লাসের আয়োজন মহিলা জামায়াতের উদ্যোগে হজী কাশেম মিয়ার বাড়িতে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।

সাক্ষীদের মতে, যুবদল নেতাদের মধ্যে নূর আলম জিকু, এনাম এবং ইকবালসহ কয়েকজন ছিলেন, যারা হঠাৎ উপস্থিত হয়ে নারীদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। তাদের কথাবার্তা ও আচরণ ক্লাসের শান্ত পরিবেশকে ব্যাহত করে, ফলে উপস্থিত নারীরা আতঙ্কিত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পৌর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি নূরনবী দ্রুত গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত করেন।

সোনাগাজী উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ মোস্তফা জানান, কোরআন ক্লাসটি হজী কাশেম মিয়ার ঘরে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তিনি উল্লেখ করেন, ক্লাসের উদ্দেশ্য কেবল ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান, যা স্থানীয় নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সামাজিক কার্যক্রম। উপস্থিত মহিলা জামায়াতের নেত্রীবৃন্দও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তারা শুধুমাত্র কোরআন পাঠের জন্যই সমবেত ছিলেন এবং কোনো ভোট সংগ্রহের প্রচেষ্টা করা হয়নি।

অন্যদিকে, যুবদল নেতারা ক্লাসের আড়ালে ভোট চাওয়া এবং জান্নাত‑জাহান্নামের ভয় দেখানোর অভিযোগ তুলে দাবি করেন যে কোরআনের নামে ভোট সংগ্রহের প্রচেষ্টা করা হচ্ছিল। নূর আলম জিকু এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, কোরআন কারো একক সম্পত্তি নয় এবং কোরআনের নামে ভোট চাওয়া কোনো ব্যক্তির অধিকার নয়। তিনি আরও জিজ্ঞাসা করেন, একজন পুরুষ কি নারীদের ধর্মীয় প্রোগ্রামে এভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

নূর আলম জিকু ফোনে বিস্তারিত বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেন এবং নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হন না। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করা সত্ত্বেও তিনি যোগাযোগে পৌঁছাতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিমুল্লাহ সোনাগাজী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে যুবদল নেতাদের হস্তক্ষেপ, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং মোবাইল ফোন ছুঁড়ে ফেলা উল্লেখ করা হয়েছে।

থানার ওয়েসি কমান্ডার কামরুল হাসান জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ কর্মকর্তারা উভয় পক্ষের সঙ্গে আলাপ করে, তর্কের মূল বিষয়গুলো পরিষ্কার করে এবং现场 সমাধান করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চালু থাকবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের现场 সমাধানের পরও মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তাধীন থাকবে। স্থানীয় আইন অনুযায়ী, ধর্মীয় সমাবেশে হস্তক্ষেপ, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং সম্পত্তি নষ্ট করার মতো অপরাধের জন্য আইনি শাস্তি নির্ধারিত আছে। সংশ্লিষ্ট যুবদল নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা দায়ের হতে পারে।

এই ঘটনার পর, সোনাগাজী উপজেলার মহিলা জামায়াতের নেতৃত্ব পুনরায় কোরআন ক্লাস চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এমন কোনো হস্তক্ষেপ রোধে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হবে।

স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাটিকে গুরুতরভাবে গ্রহণ করে, ধর্মীয় সমাবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। পুলিশ ও পৌরসভার সহযোগিতায় ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে তদারকি বাড়ানো হবে।

সামগ্রিকভাবে, কোরআন ক্লাসে যুবদল নেতাদের হস্তক্ষেপের ঘটনা ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, তবে দ্রুত পুলিশ হস্তক্ষেপ এবং স্থানীয় নেতাদের মধ্যস্থতা মাধ্যমে现场 সমাধান হয়েছে। আইনি দিক থেকে তদন্ত চলমান থাকায় ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা সময়ই বলবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments