19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনারী রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা বাধাগ্রস্ত করে

নারী রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা বাধাগ্রস্ত করে

আসন্ন নির্বাচনের দিনগুলোতে বাংলাদেশে নারী প্রার্থীদের সমর্থন না করা হলে কর্মস্থলে লিঙ্গ সমতা অর্জনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে। রাজনৈতিক মঞ্চে নারীর উপস্থিতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সরাসরি কর্মসংস্থানের নীতি ও পরিবেশকে প্রভাবিত করে। তাই ভোটের ফলাফল দেশের কর্মশক্তির লিঙ্গ কাঠামোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

বিশ্বব্যাপী সংসদ সদস্যের মাত্র এক চতুর্থাংশের কম নারী, যা লিঙ্গ সমতার সর্বোচ্চ বাধা হিসেবে চিহ্নিত। এ সংখ্যা উন্নত দেশেও কম, আর উন্নয়নশীল অঞ্চলে বিশেষভাবে কম। আন্তর্জাতিক তুলনায় এ ধারা এশিয়া‑প্যাসিফিক অঞ্চলে, বাংলাদেশসহ, আরও স্পষ্ট।

এই অঞ্চলে সামাজিক রীতি, কাঠামোগত বৈষম্য এবং রাজনৈতিক নেটওয়ার্কে অসম প্রবেশাধিকার নারী প্রার্থীর সংখ্যা ও সফলতার হারকে সীমাবদ্ধ করে। পার্টি কাঠামোর পুরুষ আধিপত্য, তহবিলের অসম বণ্টন এবং প্রচারাভিযানের সমর্থনের অভাবই মূল বাধা হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশে নারীর কর্মসংস্থানে প্রবেশ, কর্মস্থলে টিকে থাকা এবং নেতৃত্বের পদে অগ্রসর হওয়া সব ক্ষেত্রেই বাধা দেখা যায়। অধিকাংশ নারী অনানুষ্ঠানিক, কম বেতনের এবং অনিরাপদ কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যেখানে সামাজিক সুরক্ষা কম।

নির্বাচনের সময় পার্টিগুলো যদি নারীর প্রার্থীকে সমর্থন না করে, তবে কর্মক্ষেত্রের সমতা নীতি যথাযথভাবে গড়ে উঠবে না। পুরুষ নেতৃত্বে গৃহীত বাজেট, শ্রম আইন, সামাজিক সুরক্ষা এবং নগর নিরাপত্তা নীতি নারীর কর্মসংস্থানকে প্রভাবিত করে।

রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কর্মস্থলের শর্তাবলী গঠিত হয়; উদাহরণস্বরূপ, বাজেটের অগ্রাধিকার, শ্রমিকের অধিকার সংরক্ষণ এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা সবই পুরুষ শাসক গোষ্ঠীর দ্বারা নির্ধারিত হয়। এই নীতিগুলো না বদলে নারীর কর্মসংস্থান উন্নয়ন কঠিন।

অনেক নারী অনানুষ্ঠানিক সেক্টরে কাজ করে, যেখানে বেতন কম এবং কাজের নিরাপত্তা কম। শিশুর যত্ন, নিরাপদ যাতায়াতের অভাব এবং কঠোর কাজের সময়সূচি তাদের কর্মজীবন থেকে বেরিয়ে আসার প্রধান কারণ।

শিশু দেখাশোনা ও গৃহস্থালি কাজের ভারী দায়িত্ব নারীর ওপর বেশি পড়ে, যা তাদের ক্যারিয়ার গড়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে। এশিয়া‑প্যাসিফিক অঞ্চলে পুরুষের তুলনায় নারীরা বহু গুণ বেশি অবৈতনিক কাজ করে, ফলে পেশাগত অগ্রগতি সীমিত হয়।

রাজনৈতিক প্রচার ও আইনগত ব্যবস্থা ছাড়া এই অবৈতনিক কাজের মূল্যায়ন হয় না, ফলে কর্মস্থল এমনভাবে গড়ে ওঠে যা ধারাবাহিক, পুরুষ-কেন্দ্রিক ক্যারিয়ারকে সমর্থন করে। নারীর জন্য বিশেষ সেবা, শিশুর যত্ন কেন্দ্র এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা না থাকলে সমতা অর্জন কঠিন।

ভিয়েতনামে নারী সংসদ সদস্যের অংশ প্রায় ৩১ শতাংশ, যা সামাজিক সেবা, শ্রম সুরক্ষা এবং শিক্ষায় বিনিয়োগের সঙ্গে সমন্বয় ঘটায়। এই নীতি পরিবর্তন নারীর কর্মশক্তিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়তা করেছে।

রুয়ান্ডায় নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা ৬০ শতাংশের বেশি, যেখানে নারী আইনপ্রণেতারা সামাজিক সুরক্ষা, মাইক্রোফাইন্যান্স এবং কৃষি সহায়তা নীতি চালু করেছে। এই উদাহরণগুলো দেখায় যে নারীর রাজনৈতিক উপস্থিতি নীতি স্তরে সরাসরি পরিবর্তন আনতে পারে।

সারসংক্ষেপে, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা অর্জনের জন্য নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতা বাড়ানো অপরিহার্য। আসন্ন নির্বাচনে পার্টিগুলোর নারীর প্রার্থীকে সমর্থন ও সমান সুযোগ প্রদানই কর্মস্থলের ন্যায়সঙ্গত নীতি গঠনের মূল চাবিকাঠি হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments