বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) ১২-এর শেষ পর্যায়ের সূচনা ঢাকা শহরে নির্ধারিত হয়েছে, প্রথম ম্যাচটি ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এই পর্যায়ে দলগুলো প্লে‑অফের শেষ সিটের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা করবে, ফলে প্রতিটি ম্যাচের ফলাফল সরাসরি টুর্নামেন্টের গতি নির্ধারণ করবে।
লিগটি পূর্বে সিলেট পর্যায়ে শেষ হয়ে যাওয়ার পর এখন ঢাকা শহরে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার থেকে আবার শুরু হবে। শিডিউল অনুযায়ী, দলগুলোকে একে একে মুখোমুখি হতে হবে, আর প্রতিটি জয় তাদের পয়েন্ট সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিলেট পর্যায়ের শেষ ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স দল ধাক্কা ক্যাপিটালসকে সাত উইকেটের পার্থক্যে পরাজিত করে, ফলে তাদের পয়েন্ট ১২ এ বৃদ্ধি পায় এবং প্লে‑অফে সরাসরি স্থান নিশ্চিত হয়। এই জয়টি দলের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং পরবর্তী ধাপের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছে।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জয়ের ফলে চট্টগ্রাম রয়্যালস এবং সিলেট টাইটানসেরও প্লে‑অফে স্থান নিশ্চিত হয়েছে; উভয় দলের পয়েন্ট ১০ এ স্থিত হয়েছে। তাদের পারফরম্যান্স সিলেট পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো রয়ে গিয়েছে, যা এখন টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে তাদের অবস্থানকে দৃঢ় করেছে।
ধাক্কা ক্যাপিটালসের অবস্থান এখন কঠিন, কারণ তারা আটটি ম্যাচে মাত্র চার পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পেরেছে। দলটি যদি বাকি দুইটি ম্যাচ জিতে নিতে পারে, তবে প্লে‑অফের শেষ সিটের জন্য সুযোগ তৈরি হবে, তবে তা অন্য দলের ফলাফলের ওপরও নির্ভরশীল।
শেষ প্লে‑অফ সিটের জন্য এখনও তিনটি দল লড়াই করছে: রংপুর রাইডার্সের পয়েন্ট আট, ধাক্কা ক্যাপিটালসের চার, এবং নোয়াখালি এক্সপ্রেসের চার। এই তিনটি দলকে বাকি ম্যাচে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখাতে হবে, নতুবা তাদের টুর্নামেন্টের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে।
ঢাকা পর্যায়ের টিকিট এখন শুধুমাত্র অনলাইন মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে, www.gobcbticket.com.bd সাইটে গিয়ে ক্রয় করা যাবে। টিকিটের মূল্য টাকার ২০০ থেকে ২,০০০ পর্যন্ত নির্ধারিত, যা ভক্তদের বিভিন্ন আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ঢাকা পর্যায়ের উদ্বোধনী ম্যাচে নোয়াখালি এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যা দুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ হবে। উভয় দলই শেষ পর্যায়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়, ফলে ম্যাচটি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠবে।
প্রথম দিনের পরের ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স সিলেট টাইটানসের সঙ্গে লড়াই করবে, যা প্লে‑অফের সীমানা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দুই দলের মধ্যে পূর্বের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বর্তমান পয়েন্টের পার্থক্য ম্যাচকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে।
পরবর্তী সপ্তাহে টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো নির্ধারিত হয়েছে: ১৯ জানুয়ারি এলিমিনেটর এবং কোয়ালিফায়ার ১ অনুষ্ঠিত হবে, এরপর ২১ জানুয়ারি কোয়ালিফায়ার ২ এবং সর্বশেষে ২৩ জানুয়ারি চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল হবে। এই সময়সূচি অনুযায়ী দলগুলোকে কৌশলগতভাবে খেলতে হবে, যাতে তারা চূড়ান্ত ম্যাচে পৌঁছাতে পারে।
প্লে‑অফের শেষ সিটের জন্য লড়াই করা দলগুলোর জন্য বাকি ম্যাচগুলো এখনই নির্ধারক; প্রতিটি জয় তাদের টুর্নামেন্টে অগ্রগতির সম্ভাবনা বাড়াবে, আর কোনো পরাজয় তাদের স্বপ্নকে ভেঙে দিতে পারে। ভক্তদের উত্সাহ এবং স্টেডিয়ামের পরিবেশও এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বড় ভূমিকা রাখবে।
ঢাকার ভক্তদের জন্য এই পর্যায়টি বিশেষ আকর্ষণীয়, কারণ তারা সরাসরি মাঠে গিয়ে নিজেদের প্রিয় দলকে সমর্থন করতে পারবে। টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেটের উষ্ণতা এবং দেশীয় ক্রীড়া সংস্কৃতির সমন্বয়ও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।



