ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রিজার্ভ চুরি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের শেষ তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছেন। এই সিদ্ধান্তটি সিআইডি (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) পূর্বে নির্ধারিত সময়সীমা পূরণ না করার পর নেওয়া হয়েছে।
মূল দায়ের তারিখ ছিল মঙ্গলবার, যখন আদালত প্রথমবারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারণ করেছিল। তবে সিআইডি কোনো প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় আদালতকে পুনরায় তারিখ নির্ধারণে বাধ্য হতে হয়।
ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন তারিখ নির্ধারণের মাধ্যমে মামলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তদন্তের ফলাফল দ্রুত জানানো উভয় পক্ষের স্বার্থের জন্য প্রয়োজনীয়।
মামলার মূল ঘটনা ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ঘটেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে, সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়। এই অর্থ পরবর্তীতে ফিলিপাইনে পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত হ্যাকার গ্রুপের কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট তথ্য না থাকলেও, দেশের অভ্যন্তরের কিছু নেটওয়ার্কের সহায়তায় রিজার্ভের সিস্টেমে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
সেই বছরের ১৫ মার্চ, বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদি একই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাতানামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তিনি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন‑২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এবং তথ্য ও প্রযুক্তি আইন‑২০০৬ এর ধারাগুলি উল্লেখ করে অভিযোগ উপস্থাপন করেন।
মামলায় উল্লেখিত ধারাগুলি হল তথ্য ও প্রযুক্তি আইন‑২০০৬ এর ধারা ৫৪, ৩৭৯ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন‑২০১২ এর ধারা ৪‑সহ। এই ধারাগুলি অনুসারে অপরাধের ধরণ, অর্থের অবৈধ প্রবাহ এবং সাইবার অপরাধের শাস্তি নির্ধারিত হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি তদন্ত শুরু করে এবং এখন পর্যন্ত কিছু প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনও আদালতে জমা হয়নি, যার ফলে আদালত নতুন সময়সীমা নির্ধারণের প্রয়োজন বোধ করেছে।
আসন্ন ১৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে সিআইডি কী ধরনের ফলাফল উপস্থাপন করবে তা বিচার বিভাগের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনটি যদি চুরি করা অর্থের গন্তব্য, হ্যাকারদের পরিচয় এবং লেনদেনের পদ্ধতি স্পষ্ট করে, তবে মামলায় দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব হবে।
এই মামলাটি দেশের আর্থিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা উন্মোচনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত সাইবার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। রিজার্ভ চুরির পরিণতি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম উল্লেখ করেছেন যে, তদন্তের ফলাফল যদি অপরাধীদের সনাক্ত করতে সহায়তা করে, তবে সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া হবে। আদালত এখনো কোনো রায় প্রদান করেনি, তবে তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণের মাধ্যমে মামলায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
রিজার্ভ চুরি মামলার পরবর্তী ধাপগুলোতে সিআইডি কী ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করবে এবং আদালত কীভাবে তা মূল্যায়ন করবে, তা দেশের আর্থিক সেক্টরের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে।



