জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রী জোহান ওয়েডফুল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড আক্রমণের সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখেন না, এভাবে ট্রাম্পের ধারাবাহিক হুমকিকে তুচ্ছ করে দেখালেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট বহু বছর ধরে গ্রিনল্যান্ডকে কিনতে বা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং সম্প্রতি আবারও এই অঞ্চলকে “একভাবে না অন্যভাবে” যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন।
ওয়েডফুলের মতে, আর্টিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সাধারণ স্বার্থ রয়েছে এবং জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই এই বিষয়টি সমাধানের জন্য সহযোগিতা করবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের পর এই বক্তব্য দেন।
নাটো বর্তমানে আর্টিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে আরও স্পষ্ট কৌশল তৈরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা পরবর্তী সময়ে অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা হবে।
এই আলোচনার অংশ হিসেবে রুবিও এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের শীর্ষ কূটনীতিকরা এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে একত্রিত হবেন, যেখানে গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
গ্রিনল্যান্ডের সরকারও সোমবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, কোনো পরিস্থিতিতেই যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা অঞ্চলটি দখল করা স্বীকারযোগ্য নয় এবং তারা সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ইউএস কংগ্রেসের কিছু সদস্যও একই দিনে একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছেন যে, একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার ও শনিবার কপেনহেগেনে সফর করবে এবং ড্যাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের আগে সেখানে থাকবে। ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর ক্রিস কুনস উল্লেখ করেন যে, এই সফরে আর্টিক নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত করার বিষয়গুলো আলোচনা হবে। রিপাবলিকান সেনেটর থম টিলিসও যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে তাদের মিত্রদের সমর্থন করতে আহ্বান জানান।
গ্রিনল্যান্ড এবং নাটো একসঙ্গে আর্টিকের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা চালু করেছে, যা ট্রাম্পের বারবার উল্লেখিত রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ট্রাম্পের যুক্তি অনুযায়ী, আর্টিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রিয়াকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা কৌশলগতভাবে অপরিহার্য। তবে জার্মানির এই মন্তব্য এবং নাটোর সমন্বিত পরিকল্পনা দেখায় যে, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপের পরিবর্তে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সমাধান খোঁজা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আর্টিকের ভূ-রাজনৈতিক গতিবিধি, নিরাপত্তা নীতি এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এবং যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক, জার্মানি ও নাটোর মধ্যে সমন্বয়মূলক আলোচনা অব্যাহত থাকবে।



