ইয়ানফিল্ডে অনুষ্ঠিত এফএ কাপ চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে লিভারপুল ৪-১ স্কোরে বার্নস্লিকে পরাজিত করে পরবর্তী রাউন্ডে অগ্রসর হয়েছে। হাঙ্গেরীয় আন্তর্জাতিক ডোমিনিক সজোবস্লাই প্রথমার্ধে দীর্ঘ দূরত্ব থেকে শীর্ষ কোণে এক চমৎকার শট মারেন, যা লিভারপুলের প্রথম গোল হিসেবে গণ্য হয়।
সেই গোলের পর জেরেমি ফ্রিম্পংগ লিভারপুলের সুবিধা বাড়িয়ে দ্বিতীয় গোল করেন, ফলে দলটি দুই গোলের সুবিধা পায়। তবে মাঝখানে সজোবস্লাই নিজের ঘাসের বক্সে ব্যাকহিলের চেষ্টা ব্যর্থ করে, যার ফলে বার্নস্লির আডাম ফিলিপস সহজে গলে সমতা রক্ষা করেন।
বার্নস্লির কোচ কনর হৌরিহেন এই ত্রুটিকে অশ্রদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে এমন ধরণের ভুল করা সম্ভব নয়। তিনি দ্বিতীয়ার্ধে সজোবস্লাইয়ের রেইস ক্লেয়ারির উপর ট্রিপের জন্য পেনাল্টি না দেওয়াকে নিয়ে রাগ প্রকাশ করেন।
লিভারপুলের প্রধান কোচ আরনে স্লটও মিডফিল্ডারটির এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এফএ কাপ, লিগ কাপ, বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচ কিংবা প্রশিক্ষণ সেশনে এমন কাজ করা উচিত নয়। এটা একটা অদ্ভুত পছন্দ ছিল।” স্লট উল্লেখ করেন, তিনি এই বিষয়টি ডোমের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করতে চান।
দ্বিতীয়ার্ধে লিভারপুলের মূল খেলোয়াড়দের পরিবর্তে ফ্লোরিয়ান উইর্টজ, হুগো একিটিক, ইব্রাহিমা কোনাটে এবং রায়ান গ্রাভেনবার্চকে মাঠে নামিয়ে দলটি নতুন শক্তি পায়। তবে পরিবর্তনের পরও লিভারপুলের আক্রমণ ধীরগতিতে চলতে থাকে, এবং বার্নস্লি একবারের জন্য সমতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়।
দ্রুতগতির পরিবর্তন শেষে আক্রমণাত্মক সাবস্টিটিউটরা ম্যাচের শেষ পর্যায়ে প্রভাব ফেলে। একিটিকের সূক্ষ্ম ফ্লিক উইর্টজের কাছে পৌঁছে, যিনি শীর্ষ কোণে বক্রভাবে শট মারেন, যা তার পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে তৃতীয় গোল হয়ে দাঁড়ায়। এই গোলটি লিভারপুলের তৃতীয় গোল হিসেবে রেকর্ড হয়।
স্টপেজ সময়ে উইর্টজ স্বেচ্ছায় ক্রস দেন, এবং একিটিক তা হেড করে গলে লিভারপুলের চতুর্থ গোল সম্পন্ন করেন। এই দুই গোলের ধারাবাহিকতা লিভারপুলকে শেষের ছয় মিনিটে এবং অতিরিক্ত সময়ে জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
স্লট ম্যাচের পর মন্তব্য করেন, “আমরা সুন্দর গোল করেছি, তবে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত খেলা টাইট ছিল। দুই গোলের সুবিধা নিয়ে এক গোল ত্যাগ করা শেষের দশ মিনিট পর্যন্ত আমাদের জন্য কঠিন করে তুলেছিল।” তিনি দলের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ত্রুটির প্রভাবও স্বীকার করেন।
লিভারপুলের এই জয় তাদেরকে বাড়িতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সুযোগ এনে দেয়, যেখানে তারা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। এই পরবর্তী রাউন্ডটি ক্লাবের জন্য শিরোপা জয়ের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান অনুযায়ী লিভারপুলের শুটিং সংখ্যা এবং বলের দখল উভয়ই বেশি ছিল, যদিও দ্বিতীয়ার্ধে তারা কিছুটা ধীরগতিতে চলেছিল। বার্নস্লি একমাত্র গোলটি সজোবস্লাইয়ের ত্রুটির মাধ্যমে অর্জন করলেও, তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরো ম্যাচে দৃশ্যমান ছিল।
লিভারপুলের কোচ স্লটের মতে, দলের শক্তি এখনো পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি, এবং পরবর্তী ম্যাচে আরও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, “সাবস্টিটিউটদের পারফরম্যান্স আমাদের জন্য বড় সহায়তা, তবে পুরো দলকে একত্রে কাজ করতে হবে।” ভবিষ্যৎ গেমে এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখে দলটি আরও উন্নত হবে বলে আশা করা যায়।
বার্নস্লির কোচ হৌরিহেনের মন্তব্যে দেখা যায়, তিনি লিভারপুলের ত্রুটি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন, তবে তার দলও ম্যাচে কিছু মুহূর্তে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। শেষ পর্যন্ত লিভারপুলের জয়ই নির্ধারিত হয়, এবং তারা এফএ কাপের পরবর্তী রাউন্ডে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।



