প্রযুক্তি স্টার্ট‑আপ হুপো, যার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জাস্টিন কিম, প্রায় চার বছর আগে এআই‑চালিত বিক্রয় কোচিং সেবা ব্যাংক, আর্থিক সেবা ও বীমা সংস্থার জন্য চালু করেছে। কোম্পানিটি মূলত ২০২২ সালে ‘এমি’ নামের মানসিক সুস্থতা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শুরু হয়, যা চাপ মোকাবেলা, অভ্যাস গঠন ও আচরণ পরিবর্তনের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল।
কিমের ক্রীড়া প্রতি গভীর আগ্রহ, বিশেষ করে বাস্কেটবল, ফুটবল, ফর্মুলা ওয়ান এবং এমএমএ, তাকে মানব পারফরম্যান্সের মূল চালিকাশক্তি নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। এই ব্যক্তিগত অনুসন্ধান তাকে কর্মক্ষেত্রের পারফরম্যান্সের মূল উপাদানগুলো বিশ্লেষণ করতে প্রেরণা দেয়, যেখানে তিনি ধারাবাহিকভাবে মানসিক স্থিতিস্থাপকতা (মেন্টাল রেজিলিয়েন্স) কে মূল বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেন।
এই ধারণা থেকে ২০২২ সালে হুপো প্রতিষ্ঠিত হয় এবং শীঘ্রই মেটা (পূর্বে ফেসবুক) থেকে সিড রাউন্ডে বিনিয়োগ পায়। মেটার সমর্থন হুপোর প্রাথমিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে সফটওয়্যারকে ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন রুটিনে সংহত করার এবং সরল, অ‑বিচারমূলক টুল তৈরি করার শিক্ষা দেয়। কিমের মতে, কোনো টুল যদি ব্যবহারকারীর কাজের প্রবাহের সঙ্গে মানানসই না হয় অথবা অতিরিক্ত জটিল ও বিচ্ছিন্ন হয়, তবে তা কার্যকর হয় না।
এই অভিজ্ঞতা হুপোর পণ্য দিকনির্দেশনা পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে। বর্তমান সময়ে হুপো এআই‑ভিত্তিক বিক্রয় কোচিং সমাধান প্রদান করে, যা ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক সেবা সংস্থার বিক্রয় দলকে রিয়েল‑টাইমে কথোপকথন বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক ফিডব্যাক দেয়। এভাবে প্রশিক্ষণ, প্রতিক্রিয়া ও আত্মবিশ্বাসের পার্থক্য কমিয়ে স্কেলযোগ্য পারফরম্যান্স নিশ্চিত করা যায়।
প্রচলিত কোচিং মডেল সব কর্মচারীর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে পারে না; ম্যানেজাররা প্রতিটি কল বা মিটিং তত্ত্বাবধান করতে পারেন না। হুপোর এআই সিস্টেম এই ফাঁক পূরণ করে, কারণ এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কথোপকথনের সূক্ষ্মতা ধরতে এবং নির্দিষ্ট মুহূর্তে প্রাসঙ্গিক পরামর্শ দিতে সক্ষম। বিশেষ করে আর্থিক খাতের কঠোর নিয়ন্ত্রক পরিবেশে, রিয়েল‑টাইম বিশ্লেষণ ও ডেটা‑চালিত ফিডব্যাকের প্রয়োজনীয়তা বেশি, যা হুপোর প্রযুক্তি সরাসরি সমাধান করে।
হুপোর পদ্ধতি মানব বিচারকে সম্পূর্ণরূপে বদলানোর চেয়ে, মানবিক সিদ্ধান্তকে সমর্থন করার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। এআই টুলগুলোকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে তারা ব্যবহারকারীর কাজের প্রবাহে স্বাভাবিকভাবে মিশে যায়, অতিরিক্ত জটিলতা না যোগিয়ে এবং ব্যবহারকারীকে বিচারমূলক অনুভূতি না দিয়ে। ফলে কর্মচারীরা টুলকে সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করে, যা শেষ পর্যন্ত বিক্রয় ফলাফল ও গ্রাহক সন্তুষ্টি বাড়ায়।
প্রযুক্তি শিল্পে এধরনের পিভটের উদাহরণ কম দেখা যায়, তবে হুপোর সাফল্য দেখায় যে মানসিক সুস্থতা ও পারফরম্যান্সের গবেষণা সরাসরি ব্যবসায়িক ফলাফলে রূপান্তরিত হতে পারে। এআই‑চালিত কোচিং সিস্টেমের মাধ্যমে সংস্থাগুলো প্রশিক্ষণ খরচ কমাতে, কোচিংয়ের গুণগত মান স্থিতিশীল রাখতে এবং কর্মীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে।
ভবিষ্যতে হুপো এই মডেলকে আরও বিস্তৃত শিল্পে প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে, যেখানে রিয়েল‑টাইম ফিডব্যাক ও স্কেলযোগ্য কোচিং প্রয়োজন। এআই‑এর অগ্রগতি এবং ডেটা‑প্রাইভেসি নিয়মের উন্নয়ন সঙ্গে সঙ্গে হুপোর মতো স্টার্ট‑আপের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে, যা কর্মক্ষেত্রের পারফরম্যান্সকে আরও দক্ষ ও মানবিক করে তুলবে।



