অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ স্তরের ফুটবলে প্রথমবার গে হিসেবে প্রকাশ করা খেলোয়াড় যশুয়া ক্যাভালো, তার প্রাক্তন দল অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ হোমোফোবিয়া নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি গত মে মাসে ক্লাব ছেড়ে ইংল্যান্ডের স্ট্যামফোর্ড এএফসি-তে যোগদান করেন।
ক্যাভালো ২০২১ সালে গে হওয়ার কথা প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে নজরে আসে, যখন তার অস্ট্রেলিয়ান দল ও সাথীরা তার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানায়। তবে প্রকাশের পর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে হুমকি ও অপমানের শিকার হয়েছেন, যা তাকে আজও স্মরণীয় করে।
মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ক্যাভালো লিখেছেন, অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের কর্মকর্তারা তার যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে তাকে মাঠের বাইরে রাখার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, ক্লাবের পরিবর্তিত ব্যবস্থাপনা ও “রাজনৈতিক” কারণগুলোই তাকে বেঞ্চে রাখার মূল কারণ।
ক্লাবের পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়, যেখানে বলা হয়েছে যে দলীয় নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে ফুটবলের ভিত্তিতে করা হয় এবং হোমোফোবিয়া সম্পর্কিত কোনো অভিযোগ তারা কঠোরভাবে অস্বীকার করে। “সকল মাঠের সিদ্ধান্ত কেবল ফুটবলের ভিত্তিতে নেওয়া হয়” বলে তারা জোর দিয়ে বলেছে।
ক্যাভালো পোস্টে উল্লেখ করেন, তার জন্য অ্যাডিলেড ইউনাইটেড থেকে বেরিয়ে যাওয়া স্বীকার করা কঠিন ছিল, তবে ভক্তদের সৎ তথ্য জানাতে তিনি বাধ্য বোধ করেন। “আমি বুঝতে পারি না কেন আমার দল আমাকে হোমোফোবিক হিসেবে বিবেচনা করেছে,” তিনি বলেন।
তিনি আরও জানান, দলের একটি গ্রুপ চ্যাটে তার ও সঙ্গীর ছবি নিয়ে কিছু খেলোয়াড়ের উপহাসের ঘটনা ঘটেছিল। এই ধরনের আচরণ তাকে নিজের পরিচয় গোপন রাখার প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছে।
অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের মুখপাত্র এই অভিযোগে গভীর হতাশা প্রকাশ করে এবং ক্লাবের অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টার ওপর গর্ব প্রকাশ করেন। ক্লাবের পরবর্তী প্রাইড কাপ ম্যাচে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা ফুটবলে অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
ক্যাভালোর প্রকাশের পর থেকে তিনি প্রায় প্রতিদিনই মৃত্যুমুখী হুমকির মুখে ছিলেন, তবে তিনি একমাত্র অনুশোচনা হিসেবে স্বীকার করেন যে তিনি আগে প্রকাশ না করলে হয়তো কম ক্ষতি হতো।
তার ২০২১ সালের প্রকাশনা জেক ড্যানিয়েলসের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ায়, যিনি ২০২২ সালে ১৭ বছর বয়সে ব্রিটেনের প্রথম গে ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। এই ধারাবাহিকতা গে খেলোয়াড়দের দৃশ্যমানতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ক্লাবের বিরুদ্ধে ক্যাভালোর অভিযোগের ফলে অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলের অন্তর্ভুক্তি নীতি পুনরায় আলোচনার মুখে এসেছে। বিভিন্ন সমর্থক গোষ্ঠী ও মানবাধিকার সংগঠন এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের প্রাইড কাপ অংশগ্রহণের আগে এই বিতর্কের সমাধান কীভাবে হবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে ক্লাবের প্রকাশ্য মন্তব্যে তারা ভবিষ্যতে কোনো ধরনের বৈষম্য না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ক্যাভালোর এই প্রকাশনা গ্লোবাল ফুটবলে গে খেলোয়াড়দের অবস্থান ও অধিকার নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত করতে পারে।



