মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাস সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইরানে বাড়তে থাকা প্রতিবাদ ও সম্ভাব্য সহিংসতার প্রেক্ষিতে মার্কিন নাগরিকদের তৎক্ষণাৎ দেশ ত্যাগের নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ইরানের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ রূপ নিতে পারে, ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।
ইরানে চলমান অশান্তির ফলে বহু আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন তাদের ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে; কিছু সংস্থা জানিয়েছে যে তারা অন্তত ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো উড়ান চালাবে না। এই পরিবেশে, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পরামর্শে যারা নিরাপদ মনে করেন, তারা স্থলপথে আরমেনিয়া বা তুরস্কে রওনা হতে পারেন।
দূতাবাসের নির্দেশিকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে এবং বিকল্প যোগাযোগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যাত্রা শুরু করার আগে পর্যাপ্ত খাবার, পানীয়, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুদ রাখা, এবং নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরা ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করে চলা উচিত, কারণ ইরান দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দেয় না এবং শুধুমাত্র ইরানি নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে। যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট বা অন্য কোনো যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত নথি দেখালে জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তার বা আটক হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
সীমান্ত পারাপারের বিষয়ে, আরমেনিয়ার আগারাক ও নর্দুজ সীমান্তের গেটগুলো সোমবার পর্যন্ত খোলা থাকবে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই সর্বোচ্চ ১৮০ দিন পর্যন্ত সেখানে থাকতে পারবেন। তুরস্কের গুরবুলাক‑বাজারগান, কাপিকয়‑রাজি এবং এসেন্দেরে‑সেরো সীমান্ত গেটগুলোও ব্যবহারযোগ্য, তবে আজারবাইজান, আফগানিস্তান, ইরাক ও পাকিস্তান‑ইরান সীমান্ত ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ইরান‑সংকটের প্রেক্ষাপটে নেওয়া একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, যেখানে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক শূন্যে রয়েছে এবং ট্যাংকেড এমবেসি ১৯৭৯ সাল থেকে কার্যকর নয়। ভার্চুয়াল দূতাবাসের মাধ্যমে সরাসরি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা, দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু করার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবাদগুলো মূলত অর্থনৈতিক মন্দা, রাজনৈতিক দমন এবং সামাজিক অসন্তোষের প্রতিক্রিয়া হিসেবে শুরু হয়েছিল, এবং দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে তুরস্ক ও আরমেনিয়ার সঙ্গে সীমান্তে চলমান বাণিজ্যিক ও মানবিক সংযোগে।
মার্কিন দূতাবাসের নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, যারা অবিলম্বে ইরান ত্যাগ করতে পারছেন না, তাদেরকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। জরুরি যোগাযোগের জন্য দূতাবাসের হটলাইন নম্বর ও ইমেল ঠিকানা প্রদান করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে সহায়তা পাওয়া যায়।
এই ঘোষণার পর, কিছু ইউরোপীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশও তাদের নাগরিকদের জন্য অনুরূপ সতর্কতা জারি করেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনা সবচেয়ে কঠোর এবং তাত্ক্ষণিক প্রস্থানকে জোর দেয়। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত রপ্তানি ও মানবিক সহায়তা প্যাকেজের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাসের এই পদক্ষেপ ইরানের অভ্যন্তরীণ অশান্তির সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও মানবিক উদ্বেগের সংযোগকে তুলে ধরে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পর্যবেক্ষকরা ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এবং প্রতিবাদগুলোর সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছেন, এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্কতা অঞ্চলের সামগ্রিক স্থিতিশীলতায় কী প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে বিশ্লেষণ চালিয়ে যাবে।



