22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধচট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ডিজেল পাইপলাইন ফুটে তেল চুরির চেষ্টা, সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ডিজেল পাইপলাইন ফুটে তেল চুরির চেষ্টা, সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ

চট্টগ্রাম বিভাগের মিরসরাই উপজেলার ১৫ নম্বর ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের হাদি ফকিরহাট রোডের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ডিজেল পরিবহন পাইপলাইনে ফুটো ঘটায় তেল চুরির প্রচেষ্টা। ঘটনাটি জানুয়ারি ৮ তারিখে প্রকাশ পায়, যখন মাটির প্রায় দশ ফুট গভীরে থাকা পাইপলাইন থেকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ডিজেল বেরিয়ে এসে সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে সংশ্লিষ্ট লাইন থেকে তেল সরবরাহ অবিলম্বে বন্ধ করা হয়।

বিপিএসসি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফুটো ঘটার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও জ্বালানি সংস্থা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরবর্তী রোববারের সকাল থেকে পুনরায় ডিজেল সরবরাহ শুরু করে। তবে তেল চুরির সন্দেহজনক প্রকৃতি নিয়ে তদন্তের হাত বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আফসার পূর্বে ওই পাইপলাইনের ঠিক উপরে একটি টিনশেড গড়ে তোলেন এবং পরে তা খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সোনাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দিনের পুত্র আমিরুল ইসলামের কাছে ভাড়া দেন। সূত্র অনুযায়ী, ভাড়া নেওয়ার পর আমিরুল পরিকল্পিতভাবে মাটি খুঁড়ে পাইপলাইন পর্যন্ত পৌঁছান এবং সেখানে ছিদ্র তৈরি করেন।

ছিদ্র তৈরি করার পর তিনি মূল পাইপলাইনের সঙ্গে আলাদা একটি পাইপ ও মিটার সংযুক্ত করার চেষ্টা করেন, যা তেল চুরির উদ্দেশ্যে করা হয়। সংযোগস্থলে সঠিকভাবে ঝালাই না হওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায় এবং পাইপলাইনের উচ্চচাপের কারণে বিশাল পরিমাণে ডিজেল ছিদ্র থেকে বেরিয়ে আসে।

বিপিএসসি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। একজন কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, জানান যে চোররা মূল পাইপলাইনের সঙ্গে অতিরিক্ত পাইপ ও মিটার যুক্ত করার সময় সংযোগস্থলে ঝালাই ব্যর্থ হয়। তেলের চাপ বেশি থাকায় ছিদ্র থেকে দ্রুত লিকেজ হয়, ফলে তেল সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।

সেই সময়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যায় এবং তেলসহ কোনো ধরা না পড়ে। তেল চুরির সরাসরি প্রমাণ পাওয়া না গেলেও, স্থানীয় প্রশাসন ও বিপিএসসি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে, দশ ফুট গভীরে থাকা পাইপলাইনে দীর্ঘ সময় ধরে গোপনভাবে কাজ করা কীভাবে সম্ভব হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

বিপিএসসি এই ঘটনার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে কমিটির প্রতিবেদন এখনও জমা হয়নি এবং ফলাফলের অপেক্ষা চলছে। তদন্তের ফলাফলে যদি চোরাচালানের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জ্বালানি চুরির আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, তেল চুরি ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা লঙ্ঘন উভয়ই অপরাধের অন্তর্গত এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি নির্ধারিত। বর্তমানে পুলিশ ও বিপিএসসি যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর অপরাধীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই ঘটনা জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ চুরির প্রতিরোধে তদারকি ও নজরদারির শক্তিশালীকরণ দাবি বাড়িয়ে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পাইপলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, চোরাচালান বন্ধ করতে কঠোর আইন প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments