আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) টি‑২০ বিশ্বকাপের পূর্বে একটি অভ্যন্তরীণ হুমকি মূল্যায়ন রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এই নথি হোস্ট দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশকে বিশ্লেষণ করে এবং অংশগ্রহণকারী সব ক্রিকেট বোর্ডকে তথ্য সরবরাহের উদ্দেশ্যে তৈরি। রিপোর্টের মূল লক্ষ্য হল টুর্নামেন্টের সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা প্রদান করা।
রিপোর্টটি হোস্ট দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অপরাধমূলক পরিস্থিতি সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করে একটি সামগ্রিক চিত্র উপস্থাপন করে। এতে সড়ক, বিমানবন্দর, হোটেল ও ম্যাচ ভেন্যুর নিরাপত্তা অবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা পদক্ষেপের সুপারিশ করে না; তা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।
এই মূল্যায়ন কাজটি আইসিসি’র স্বাধীন নিরাপত্তা বিশ্লেষক দলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। দলটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, ঝুঁকি বিশ্লেষক ও স্থানীয় তথ্যসূত্রের সমন্বয়ে গঠিত এবং কোনো স্বার্থের সংঘাত থেকে মুক্ত। তাদের কাজ হল হোস্ট দেশের নিরাপত্তা অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা।
বিশ্লেষক দল হোস্ট দেশের সরকারী সংস্থা, স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য সংগ্রহ করে। সংগ্রহিত তথ্যের ভিত্তিতে তারা ঝুঁকির মাত্রা, সম্ভাব্য হুমকি এবং তাদের প্রভাবের সম্ভাবনা নির্ধারণ করে। ফলাফলটি একটি সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট ও তথ্যভিত্তিক রিপোর্টে সংকলিত হয়।
রিপোর্টে কোন নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয় না। এটি কেবল হোস্ট দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিবেশের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণকারী ক্রিকেট বোর্ডের ওপর থাকে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সহ অন্যান্য বোর্ড এই রিপোর্টের ভিত্তিতে তাদের দলকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিছু বোর্ড রিপোর্টের তথ্যের সাথে তৃতীয় পক্ষের স্বাধীন যাচাইয়ের অনুরোধ করে, যাতে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় বোর্ডগুলো নিজেদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করে এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
আইসিসি প্রতিটি আন্তর্জাতিক ইভেন্টের আগে এই ধরনের নিরাপত্তা বিশ্লেষণ চালিয়ে থাকে। বিশ্লেষক দল হোস্ট দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে এবং রিপোর্টের আপডেট প্রদান করে। এই ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ টুর্নামেন্টের সময় অপ্রত্যাশিত ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
আসন্ন টি‑২০ বিশ্বকাপের জন্য আইসিসি’র নিরাপত্তা দল ইতিমধ্যে হোস্ট দেশের নিরাপত্তা অবস্থা মূল্যায়ন করেছে। রিপোর্টে উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে বিসিবি এবং অন্যান্য অংশগ্রহণকারী বোর্ডগুলো তাদের দলকে নিরাপদে ভ্রমণ ও অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেছে। কিছু বোর্ড রিপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ভেন্যুতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রিপোর্টের তথ্য শেয়ার করার পর, অংশগ্রহণকারী বোর্ডগুলো প্রয়োজনে তৃতীয় পক্ষের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে। এই বিশেষজ্ঞরা রিপোর্টের বিষয়বস্তু পুনরায় যাচাই করে এবং অতিরিক্ত পরামর্শ প্রদান করতে পারে। তৃতীয় পক্ষের যাচাই প্রক্রিয়া বোর্ডের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
বিসিবি রিপোর্টের ভিত্তিতে তার দলকে নিরাপদে ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ভ্রমণ পরিকল্পনা, হোটেল নির্বাচন এবং ম্যাচের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণ করেছে। একই সময়ে, অন্যান্য বোর্ডও রিপোর্টের তথ্য ব্যবহার করে তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা নীতি প্রয়োগ করেছে। ফলে টুর্নামেন্টের সময় সকল দলই নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পষ্ট ধারণা নিয়ে অংশগ্রহণ করতে পারবে।
পূর্বে অনুষ্ঠিত আইসিসি ইভেন্টগুলোতেও একই ধরনের হুমকি মূল্যায়ন রিপোর্ট ব্যবহার করা হয়েছে। ঐ রিপোর্টগুলোতে হোস্ট দেশের নিরাপত্তা অবস্থা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং বোর্ডগুলো সেই তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়। এই ধারাবাহিক পদ্ধতি টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা ও খেলোয়াড়দের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সারসংক্ষেপে, আইসিসি’র অভ্যন্তরীণ হুমকি মূল্যায়ন রিপোর্ট হোস্ট দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য সরবরাহ করে এবং অংশগ্রহণকারী ক্রিকেট বোর্ডকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। যদিও রিপোর্টে কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা নির্দেশনা নেই, তবু এটি টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। এই পদ্ধতি টি‑২০ বিশ্বকাপকে নিরাপদ ও সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য অপরিহার্য।



