ঢাকা, উত্তরা – গার্মেন্ট শিল্পের প্রধান সংস্থা বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BGMEA) রায়ের একটি সমাবেশে গতকাল উল্লেখ করেছে যে, ত্রিকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া রেডি-মেড গার্মেন্ট (RMG) খাতের দ্রুত বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা পালন করেন। এই সমাবেশে শত শত গার্মেন্ট উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন এবং আলোচনার মূল বিষয় ছিল ১৯৯১ সালে গৃহীত নীতি পরিবর্তন।
১৯৯১ সালে, গার্মেন্ট শিল্পের সম্ভাবনা উপলব্ধি করে, খালেদা জিয়া একটি নতুন নীতি প্রণয়ন করেন যা BGMEA-কে ব্যবহারিক ঘোষণাপত্র (Utilisation Declaration – UD) ও ব্যবহারিক অনুমতি (Utilisation Permission – UP) জারি করার অধিকার প্রদান করে। এই দুই ধরনের অনুমোদন গার্মেন্ট উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও আমদানি করা ফ্যাব্রিকের পরিমাণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পূর্বে এই অনুমোদনপত্রগুলি সরকারী রপ্তানি প্রচার ব্যুরো (Export Promotion Bureau – EPB) থেকে ইস্যু হতো, যার ফলে প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিলম্ব দেখা যেত। বিলম্বের ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো অর্ডার অন্য দেশের দিকে সরিয়ে নিত। BGMEA-কে এই অনুমোদন জারি করার ক্ষমতা প্রদান করে, খালেদা জিয়া প্রক্রিয়াটিকে দ্রুততর ও স্বচ্ছ করে তোলেন।
অনুমোদন প্রক্রিয়ার সরলীকরণ গার্মেন্ট উৎপাদনকারীদের জন্য সময়সীমা কমিয়ে দেয় এবং রপ্তানি চক্রকে ত্বরান্বিত করে। ফলে বেসরকারি উদ্যোক্তারা দ্রুত কাঁচামাল সংগ্রহ করে উৎপাদনে মনোনিবেশ করতে পারেন, যা রপ্তানি বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়তা করে। এই নীতি পরিবর্তনকে শিল্পের বেসিক অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
খালেদা জিয়ার শাসনকালে, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রথমবারের মতো এক বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে। এই মাইলফলকটি তার নীতি চালনার ফলস্বরূপ অর্জিত হয়েছে এবং BGMEA নেতারা এটিকে তার সময়ের অন্যতম সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
১৯৭৮ সালে গার্মেন্ট শিল্পের সূচনা থেকে শুরু করে সরকারী সহায়তার অভাবের কারণে শিল্পটি ধীরগতিতে বিকশিত হচ্ছিল। তবে ১৯৯১ সালের নীতি পরিবর্তনের পর, শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা ও রপ্তানি পরিমাণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়। এই সময়ে গার্মেন্ট খাতের কাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
খালেদা জিয়া পাশাপাশি উচ্চ শতাংশের নগদ প্রণোদনা প্রবর্তন করেন, যা স্থানীয় উৎপাদনকারীদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অর্জনে সহায়তা করে। নগদ প্রণোদনা মূলত রপ্তানি ভিত্তিক উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল ক্রয়ের খরচ কমাতে লক্ষ্য করে ছিল।
আজকের দিনে বাংলাদেশ গ্লোবাল গার্মেন্ট বাজারে চীনের পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক হিসেবে দাঁড়িয়েছে এবং বিশ্ব বাজারের প্রায় ৮ শতাংশ শেয়ার দখল করে। এই অবস্থানটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভে রূপান্তরিত হয়েছে।
পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময়ে গার্মেন্ট শিল্পে চার মিলিয়নেরও বেশি কর্মী নিয়োজিত হয়েছে, যার বেশিরভাগই নারী। শিল্পের বৃদ্ধির ফলে নারীর অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশের মোট জিডিপির ১৩ শতাংশ অবদান রাখে। এছাড়া, মোট $৭৫ বিলিয়ন বিনিয়োগ (প্রাথমিক টেক্সটাইলে $২৩ বিলিয়ন, গার্মেন্টে $৫২ বিলিয়ন) এই খাতে আকৃষ্ট হয়েছে।
ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে, খালেদা জিয়ার নীতি পরিবর্তন গার্মেন্ট সেক্টরের সরবরাহ শৃঙ্খলকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলেছে এবং রপ্তানি ভিত্তিক উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো গড়ে তুলেছে। ভবিষ্যতে, যদি সরকার ডিজিটাল কাস্টমস ও স্বয়ংক্রিয় গুদাম ব্যবস্থার মতো আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করে, তবে রপ্তানি দক্ষতা আরও বাড়বে। তবে, কাঁচামালের আন্তর্জাতিক মূল্য ওঠানামা, শ্রমিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক চাপ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতির পরিবর্তন ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।
সংক্ষেপে, খালেদা জিয়ার ১৯৯১ সালের নীতি সংস্কার গার্মেন্ট শিল্পের রূপান্তরে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে; এটি রপ্তানি প্রক্রিয়ার গতি বাড়িয়ে, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সময়ে শিল্পটি আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছে, তবে ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তি গ্রহণ ও নীতি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।



