ওয়েলশের প্রখ্যাত অভিনেতা মাইকেল শিন এক বছর আগে নিজের অর্থ দিয়ে নতুন জাতীয় থিয়েটার গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং এখন সেই প্রতিষ্ঠানের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নাটকের মঞ্চে নিজে অভিনয় করতে প্রস্তুত। তিনি এই উদ্যোগকে ওয়েলশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায়।
শিনের এই উদ্যোগের পেছনে তার আর্থিক সক্ষমতা, মিডিয়ায় প্রভাব এবং শিল্প জগতে বিশাল পরিচিতি রয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে, তার অবস্থানই এই প্রকল্পকে বাস্তবায়নের মূল চাবিকাঠি। নিজের তহবিল দিয়ে প্রারম্ভিক খরচ মেটাতে পারা, মিডিয়া দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং শিল্পী ও কর্মী নিয়োগে দরজা খুলে দেওয়া—all এই ক্ষমতা তাকে একমাত্র উপযুক্ত প্রার্থী করে তুলেছে।
অভিনেতা শিন পূর্বে হোমলেস ওয়ার্ল্ড কাপের মতো আন্তর্জাতিক প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন এবং অসংখ্য মানুষের ঋণ মওকুফে সাহায্য করেছেন। এছাড়া, ওয়েলশের সাংস্কৃতিক বাজেটের কাটছাঁটের বিরুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে মত প্রকাশ করেছেন, যা তার সমাজসেবামূলক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে।
২০২৪ সালের শেষের দিকে আর্টস কাউন্সিল অফ ওয়েলশের তহবিল কমে যাওয়ায় পুরনো ন্যাশনাল থিয়েটার বন্ধ হয়ে যায়। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার ফলে দেশের নাট্য পরিবেশে একটি বড় ফাঁক তৈরি হয়, যা শিনের নতুন পরিকল্পনার জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করে।
শিনের নতুন থিয়েটারকে তিনি পূর্বের তুলনায় বড়, ব্যয়বহুল, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং সাহসী হিসেবে চিত্রিত করেন। তার লক্ষ্য ছিল এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা শুধু স্থানীয় দর্শকদের নয়, বরং যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক দর্শকদেরও আকৃষ্ট করবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি নিজেকে সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে দেখেন, কারণ অন্য কেউ এই মুহূর্তে এমন উদ্যোগ চালাতে সক্ষম নয়।
২০২৫ সালের শুরুর দিকে শিন ওয়েলশ ন্যাশনাল থিয়েটারের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করেন এবং নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা শিল্পনির্দেশক হিসেবে নিযুক্ত করেন। তার নেতৃত্বে থিয়েটারটি দ্রুত কাঠামো গঠন করে, কর্মী নিয়োগ করে এবং প্রথম প্রযোজনার জন্য প্রস্তুতি নেয়।
এই সপ্তাহে থিয়েটারের প্রথম বড় প্রযোজনা মঞ্চে আসবে, যেখানে শিন নিজে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন। প্রযোজনাটি স্থানীয় নাট্য সমালোচকদের দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এটি থিয়েটারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়ক হবে।
শিনের মতে, নতুন থিয়েটারটি শুধুমাত্র নাট্যকলা নয়, বরং ওয়েলশের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে পুনরুজ্জীবিত করার একটি মাধ্যম হবে। তিনি আশা করেন যে, এই প্রতিষ্ঠানটি দেশের তরুণ শিল্পীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ওয়েলশের সৃজনশীলতা তুলে ধরবে।
প্রথম প্রযোজনার উদ্বোধন ওয়েলশের নাট্য জগতের জন্য একটি নতুন সূচনা চিহ্নিত করে। শিনের স্ব-অর্থায়িত উদ্যোগের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই থিয়েটারটি দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করবে।



