২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বব্যাপী ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বাজারে এআই‑এর উত্সাহের ফলে একাধিক স্টার্ট‑আপ এক বিলিয়ন ডলারের মূল্যমান অতিক্রম করে ইউনিকর্নের মর্যাদা পেয়েছে। ক্রাঞ্চবেস ও পিচবুকের তথ্য অনুযায়ী, এই বছর পর্যন্ত মোট একশের বেশি কোম্পানি ইউনিকর্নের তালিকায় যোগ দিয়েছে। অধিকাংশই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক, তবে স্যাটেলাইট ও ব্লকচেইন ক্ষেত্রের কিছু প্রতিষ্ঠানও উল্লেখযোগ্য মূল্য অর্জন করেছে।
এই তালিকায় উল্লেখযোগ্যভাবে স্যাটেলাইট পরিষেবা প্রদানকারী লোফ্ট অরবিটাল এবং ব্লকচেইন‑ভিত্তিক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম কালশি অন্তর্ভুক্ত, যা প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে। যদিও এআই স্টার্ট‑আপের সংখ্যা বেশী, তবে অন্যান্য শিল্পে উদ্ভাবনী সমাধানও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
হেভেন এ্যারোটেক, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত, হাইড্রোজেন চালিত ড্রোন তৈরিতে মনোযোগী এবং সাম্প্রতিক সময়ে ১০০ মিলিয়ন ডলারের সিরিজ বি ফান্ডিং পেয়েছে। মোট সংগ্রহ করা মূলধন ১১৫.২ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে আইওনকিউ অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী।
অন্যদিকে, আনকনভেনশনাল এআই ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ডাটাব্রিক্সের প্রাক্তন এআই প্রধান নাভিন রাও পরিচালনা করছেন। কোম্পানিটি এআই কম্পিউটিংয়ের শক্তি দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ হার্ডওয়্যার তৈরি করছে। সাম্প্রতিক সিড রাউন্ডে ৪৭৫ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে অ্যান্ড্রেসেন হোরোভিটজ ও লাইটস্পিডের মতো শীর্ষ ভিসি ফার্ম অন্তর্ভুক্ত।
সাভিয়ন্ট, ২০১০ সালে চালু হওয়া একটি আইডেন্টিটি ম্যানেজমেন্ট সাইবারসিকিউরিটি স্টার্ট‑আপ, বর্তমানে ৩ বিলিয়ন ডলারের মূল্যমানের কাছাকাছি। কোম্পানি সর্বশেষ সিরিজ বি রাউন্ডে ৭০০ মিলিয়ন ডলার তোলার মাধ্যমে মোট ৭৪০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে; কেকার অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী।
সার্ভাল, ২০২৪ সালে গঠিত, আইটি পেশাজীবীদের কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে এআই এজেন্ট সরবরাহ করে। সাম্প্রতিক সিরিজ বি রাউন্ডে ৭৪.৮ মিলিয়ন ডলার তোলার মাধ্যমে মোট ১২৬ মিলিয়ন ডলার মূলধন সংগ্রহ করেছে। সিকোয়া ও রেডপয়েন্টের মতো ভিসি ফার্মগুলো এই রাউন্ডে অংশগ্রহণ করেছে।
চাই ডিসকভারি, ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত, জৈবিক অণুর গঠন পূর্বাভাসের জন্য মডেল তৈরি করে। কোম্পানি সর্বশেষ সিরিজ বি রাউন্ডে ১৩০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে এবং মোট ২৩০ মিলিয়ন ডলার মূলধন সংগ্রহের পর ১.৩ বিলিয়ন ডলারের মূল্যমান অর্জন করেছে। জেনারেল ক্যাটালিস্ট ও থ্রাইভ ক্যাপিটালের সমর্থন এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
মোএনগেজ, ২০১৪ সালে শুরু হওয়া গ্রাহক বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম, সাম্প্রতিক সময়ে ২৮০ মিলিয়ন ডলার তোলার মাধ্যমে ইউনিকর্নের তালিকায় প্রবেশ করেছে এবং বর্তমানে ১.১ বিলিয়ন ডলারের মূল্যমানের কাছাকাছি।
এই তালিকাটি বছরের পুরো সময় জুড়ে আপডেট করা হবে, যাতে নতুন ইউনিকর্নের তথ্য সময়মতো প্রকাশ করা যায়। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বাজারের তীব্র গতি এবং এআই‑এর ক্রমবর্ধমান প্রয়োগের ফলে স্টার্ট‑আপ ইকোসিস্টেমে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, এই ধরণের উচ্চমূল্যায়নযুক্ত কোম্পানি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের গতি ত্বরান্বিত করবে এবং কর্মসংস্থান, গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এআই, স্যাটেলাইট ও ব্লকচেইন প্রযুক্তির সমন্বয় ভবিষ্যতে ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৫ সালে ইউনিকর্নের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে এআই‑কেন্দ্রিক স্টার্ট‑আপের আধিক্য স্পষ্ট। তবে স্যাটেলাইট ও ব্লকচেইন ক্ষেত্রের উদ্ভাবনগুলোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যা প্রযুক্তি শিল্পের বহুমুখিতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নির্দেশ করে।



