20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপির নারী ক্ষমতায়ন পরিকল্পনা: পরিবার কার্ড, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা

বিএনপির নারী ক্ষমতায়ন পরিকল্পনা: পরিবার কার্ড, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা

সাধারণ নির্বাচনের দিন নিকটে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে নতুন নীতি ঘোষণা করেছে। দলটি ‘পরিবার কার্ড’ চালু করে নারীদের নগদ সহায়তা ও মৌলিক খাবার সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, পাশাপাশি কর্মসংস্থান, নিরাপদ পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।

বিএনপির উচ্চপদস্থ নেতারা উল্লেখ করেছেন, এই পদক্ষেপগুলো পার্টির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোর ৩১টি সংস্কার ধারার অংশ, যেখানে নারী ক্ষমতায়নকে শাসন ও উন্নয়নের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। নির্বাচনী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১২,৭৬,৯৫,১৮৩ ভোটার মধ্যে ৬,২৮,৭৯,০৪২ জন নারী ভোটার।

‘পরিবার কার্ড’ স্কিমের অধীনে, কার্ডধারী নারীরা মাসিক ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা নগদ অথবা চাল, ডাল, তেল ও লবণ মতো প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী পেতে পারেন। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫০ লক্ষ নারীকে এই সুবিধা দেওয়া হবে, যার মধ্যে নিম্ন-আয়ের পরিবার, মহিলা প্রধান গৃহ এবং আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ নারীরা অন্তর্ভুক্ত।

পরিবহন নিরাপত্তা বাড়াতে, দলটি শহর ও প্রধান রুটে নারীদের জন্য বিশেষ বাস পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের চলাচল সহজ হবে এবং রাত্রিকালীন যাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে, বিএনপি প্রায় এক লাখ নতুন স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য স্থির করেছে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশ নারী হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে গ্রামীণ ও উপশহরীয় এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি কমে যাবে এবং নারীদের কর্মসংস্থান বাড়বে।

দলটি আপাতত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে শক্তিশালী করে পূর্ণাঙ্গ মাতৃসেবা, নিরাপদ প্রসব ও নবজাতক ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে চায়। একটি স্বাস্থ্য নীতি পরামর্শক উল্লেখ করেছেন, স্থানীয় স্তরে সময়মতো ও মানসম্পন্ন সেবা পৌঁছালে মাতৃ ও শিশুর মৃত্যুহার কমবে এবং বড় হাসপাতালের চাপ হ্রাস পাবে।

অতিরিক্তভাবে, বিএনপি গ্রামীণ ও অশিক্ষিত নারীদের জন্য দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও আয় সৃষ্টির উপর ভিত্তি করে লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গৃহিণী ও অপ্রশিক্ষিত নারীরা স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারবে বলে দলটি দাবি করে।

প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ এই পরিকল্পনাকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখিয়ে সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, নারীদের জন্য বাস্তবায়নযোগ্য নীতি দরকার, আর শুধুমাত্র ভোটের স্বার্থে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়। এছাড়া, পূর্বে ঘোষিত সমান্য প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ধীর হওয়ায় নতুন পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

বিএনপি এই নীতিগুলোকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যেখানে নারীর অংশগ্রহণ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে তারা আশাবাদী। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হবে কি না, তা এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে।

নির্বাচনের আগে নারী ভোটারদের মনোভাব কীভাবে গড়ে উঠবে, তা রাজনৈতিক পার্টিগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক। যদি বিএনপি এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারে, তবে নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সমতা অর্জনে একটি বড় অগ্রগতি হবে। অন্যদিকে, বাস্তবায়নের গতি ও স্বচ্ছতা না থাকলে ভোটারদের আস্থা ক্ষয় হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, বিএনপির নারী ক্ষমতায়ন পরিকল্পনা পরিবার কার্ড, কর্মসংস্থান, নিরাপদ পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের সমন্বয়ে গঠিত। এই নীতিগুলো নির্বাচনী সময়ে প্রকাশিত হলেও, তাদের কার্যকরী বাস্তবায়ন ও ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments