অ্যাডিলেড ফেস্টিভ্যালের লেখক সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া‑ফিলিস্তিনি লেখক রান্ডা আবদেল‑ফাতাহকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর, অনুষ্ঠানটি বিশাল সঙ্কটে পড়েছে। বোর্ডের এই পদক্ষেপটি গত সপ্তাহে নেওয়া হয় এবং তা বন্ডি বিচের একটি ইহুদি উৎসবে ঘটিত গুলিবিদ্ধ হামলার পরবর্তী সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে। ওই হামলায় ১৫ জন নিহত হয় এবং গুলিবিদরা ইসলামিক স্টেটের অনুপ্রেরণায় কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফেস্টিভ্যালের পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে যে তারা রান্ডা আবদেল‑ফাতাহের এবং বন্ডি ঘটনার মধ্যে কোনো সংযোগের ইঙ্গিত দিতে চায় না। তবে তারা যুক্তি দিয়েছে যে তার পূর্বের মন্তব্যগুলোকে বিবেচনা করে তার উপস্থিতি “সংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল নয়” বলে তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। এই ব্যাখ্যা পরবর্তী বিতর্কের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
রান্ডা আবদেল‑ফাতাহ এই সিদ্ধান্তকে “অ্যান্টি‑ফিলিস্তিনি বর্ণবাদ এবং সেন্সরশিপের স্পষ্ট ও লজ্জাজনক কাজ” বলে সমালোচনা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তার বাদ দেওয়াকে বন্ডি হামলার সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা “অবমাননাকর” এবং “অসামাজিক”। তার মন্তব্যের পরই বহু লেখক ও শিল্পী এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করতে শুরু করেন।
আদালতের সিদ্ধান্তের পরপরই লেখক সপ্তাহের অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় পরিবর্তন দেখা যায়। বহু লেখক নিজস্ব স্বেচ্ছায় অনুষ্ঠান থেকে প্রত্যাহার করেন, যা ফেস্টিভ্যালের প্রোগ্রামকে বিশালভাবে প্রভাবিত করে। প্রত্যাহারকারী লেখকদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পরিচিতি সম্পন্ন নামগুলো অন্তর্ভুক্ত।
প্রসিদ্ধ লেখক জেসিডা স্মিথ, অস্ট্রেলিয়ার প্রিয় লেখক হেলেন গার্নার, ব্রিটিশ‑অস্ট্রেলিয়ান উপন্যাসিক ক্যাথি লেট্টে, যুক্তরাষ্ট্র‑রাশিয়ান সাংবাদিক মাশা গেসেন এবং নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাদের প্রত্যাহারকে স্বাধীন মতপ্রকাশের উপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
এই পরিস্থিতিতে ফেস্টিভ্যালের পরিচালনা পর্ষদের আট সদস্যের মধ্যে চারজন, যার মধ্যে চেয়ারম্যানও অন্তর্ভুক্ত, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তারা কোনো কারণ প্রকাশ না করেও এই পদক্ষেপটি গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে লেখক সপ্তাহের পরিচালক, যিনি রান্ডা আবদেল‑ফাতাহকে আমন্ত্রণ জানাতেন, তিনি নিজেও পদত্যাগ করেন।
লুইস আদলার, যিনি হলোকাস্ট বেঁচে থাকা পরিবারের কন্যা, প্রকাশ্যে বলেন যে তিনি লেখকদের নীরব করতে অংশ নিতে পারবেন না। তিনি উল্লেখ করেন যে রান্ডা আবদেল‑ফাতাহের বাদ দেওয়া বাকস্বাধীনতা দুর্বল করে এবং এটি কম স্বাধীন জাতির পূর্বাভাস দেয়। তার এই মন্তব্য গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়ায় প্রকাশিত হয়।
আদলার আরও যোগ করেন যে শিল্পীরা সর্বদা রাষ্ট্র ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষে থাকে, তবে গাজা যুদ্ধের পর এই সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। তিনি বলেন, “শিল্প ও সাহিত্য সবসময় ক্ষমতার সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে থাকে, এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে”।
ফেস্টিভ্যালের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। নতুন প্রোগ্রাম ও অংশগ্রহণকারীর তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি, এবং সংগঠকরা কীভাবে এই সংকট মোকাবেলা করবেন তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে শিল্প ও সংস্কৃতির স্বায়ত্তশাসন রক্ষার জন্য বিভিন্ন গোষ্ঠী থেকে চাপ ও সমর্থন উভয়ই অব্যাহত রয়েছে।



