27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকনিরাপত্তা উদ্বেগে ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশি প্যাভিলিয়ন অনুপস্থিত

নিরাপত্তা উদ্বেগে ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশি প্যাভিলিয়ন অনুপস্থিত

৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা ২২ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সল্টলেক প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তবে নিরাপত্তা ও সরকারি অনুমতির ঘাটতির কারণে বাংলাদেশি প্রকাশনা সংস্থাগুলো এইবার অংশ নিতে পারছে না। মেলাটির আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড এই পরিস্থিতি নিশ্চিত করেছে এবং ভবিষ্যতে শর্ত উন্নত হলে পুনরায় অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিবেশ এবং সরকারী সবুজ সংকেতের অনুপস্থিতি ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে, ফলে তারা অংশগ্রহণে অগ্রাহ্য করেছে। তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশে পাঠকরা বহু গুরুত্বপূর্ণ শিরোনামের জন্য অপেক্ষা করে, তবে এই বছর মেলায় তা সম্ভব হচ্ছে না।

কলকাতা বইমেলা ১৯৯৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ত্রিশেরও বেশি বছর ধরে বাংলাদেশকে অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে এবং ২০২৪ সালে দেশের প্যাভিলিয়নকে ‘সেরা প্যাভিলিয়ন’ পুরস্কারও প্রদান করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং কৌশলগত বিবেচনা এইবারের অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

মেলায় মোট ১,০০০টিরও বেশি স্টল এবং ২০টি দেশের প্রতিনিধিত্ব থাকবে, যার থিম ‘কান্ট্রি আর্জেন্টিনা’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করবেন, যা আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি ও সাহিত্যিক আদানপ্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়নে বইমেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু, এবং বাংলাদেশের অনুপস্থিতি এই সেতুর কিছুটা দুর্বলতা সৃষ্টি করছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি কূটনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে, যা ভবিষ্যতে উভয় দেশের সাংস্কৃতিক সহযোগিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরা তর্ক করেন, যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয় এবং সরকারী অনুমোদন দ্রুত প্রদান করা হয়, তবে বাংলাদেশি প্রকাশকরা পুনরায় মেলায় অংশ নিতে পারবে এবং দুই দেশের পাঠকবৃন্দের মধ্যে সংযোগ পুনরুজ্জীবিত হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, উভয় পক্ষেরই নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থকে সমন্বয় করে একটি সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি।

বইপ্রেমীদের দৃষ্টিকোণ থেকে, বাংলাদেশের অনুপস্থিতি মেলায় একটি উল্লেখযোগ্য শূন্যতা তৈরি করেছে, কারণ বহু বাংলা ভাষাভাষী পাঠক এই মেলায় প্রকাশিত নতুন শিরোনাম ও আন্তর্জাতিক প্রকাশকদের সঙ্গে সরাসরি পরিচিতি লাভের সুযোগ পেতেন। এই বছর তারা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, যা স্থানীয় পাঠকসংখ্যার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

গিল্ডের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হলে এবং সরকারী অনুমোদন নিশ্চিত হলে বাংলাদেশি প্যাভিলিয়ন পুনরায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে, মেলার আয়োজকরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের জন্য স্বচ্ছ অনুমোদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সারসংক্ষেপে, ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা নিরাপত্তা ও সরকারি অনুমতির অভাবে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি স্বীকার করেছে, যদিও মেলায় ১,০০০টির বেশি স্টল এবং ২০টি দেশ অংশগ্রহণ করবে। এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ে একটি সাময়িক বাধা সৃষ্টি করেছে, তবে ভবিষ্যতে শর্ত উন্নত হলে পুনরায় সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়ে গেছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments