মঙ্গলবার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। তিনি টুইটারে জানিয়ে বলেন যে এই শুল্ক অবিলম্বে কার্যকর হবে, তবে “ইরানের সঙ্গে ব্যবসা” কীভাবে নির্ধারিত হবে তা স্পষ্ট করেননি।
শুল্কের লক্ষ্যবস্তু দেশগুলোর মধ্যে চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত এবং তুরস্ক অন্তর্ভুক্ত, যেগুলো ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে পরিচিত। এই দেশগুলো থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর নতুন কর আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ইরানের অর্থনীতিতে চাপ বাড়তে পারে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পেছনে ইরানে চলমান বিরোধী সরকারের প্রতিবাদে সশস্ত্র হস্তক্ষেপের হুমকি রয়েছে। গত সপ্তাহে ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রতিবাদকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ ঘটার পর ট্রাম্পের সরকার ইতিমধ্যে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উল্লেখ করে থাকে।
সেই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট মঙ্গলবার আবারও জানিয়ে দেন যে বিমান হামলা সহ সামরিক বিকল্পগুলো এখনও “টেবিলে” রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই বিকল্পগুলো বাদ দেওয়া হবে না।
শুল্ক আরোপের ফলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোকে নতুন আর্থিক ব্যয় স্বীকার করতে হবে। চীন ও ভারতসহ প্রধান অংশীদারদের জন্য এই সিদ্ধান্ত বাণিজ্যিক চুক্তি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।
ইরানের সরকার এখনো এই শুল্কের ব্যাপারে কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশ করেনি, তবে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে টারিফের প্রয়োগ ইরানের রপ্তানি আয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে এবং দেশের অর্থনৈতিক সংকটকে তীব্র করতে পারে।
বিশ্বের অন্যান্য প্রধান শক্তি, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়া, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বিকশিত হবে, তা নির্ভর করবে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়ার ওপর। শুল্কের প্রয়োগের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের সম্ভাবনা, অথবা সামরিক বিকল্পের ব্যবহার, উভয়ই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে।



