যুক্তরাষ্ট্রের মহিলা জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাপ্টেন লিন্ডসে হিপস, জুনে ফরাসি ক্লাব ওএল লায়োনেসের চুক্তি শেষ হওয়ার পর ন্যাশনাল উইমেনস সকার লিগের নতুন দল ডেনভার সামিটে যোগ দেবেন। ৩১ বছর বয়সী মিডফিল্ডারটি নিজের জন্মস্থান গোল্ডেন, কলোরাডোর কাছাকাছি ফিরে আসতে ইচ্ছুক ছিলেন, বিশেষ করে যখন জানুয়ারি ২০২৫-এ দলটি লিগের ষোলোতম সদস্য হিসেবে ঘোষিত হয়।
হিপসের ক্যারিয়ার ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের লিগ শিরোপা, ইউইএফএ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ট্রফি, বিশ্বকাপ জয় এবং অলিম্পিক স্বর্ণপদক দিয়ে সজ্জিত। তার এই সাফল্যগুলো তাকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম আইকন করে তুলেছে। ডেনভার সামিটের সঙ্গে চুক্তি ২০২৯ পর্যন্ত চলবে, যা তাকে পরবর্তী পাঁচ বছর ধরে দলটির মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করার সুযোগ দেবে।
হিপসের মতে, প্রথমবার দলটির নাম শোনার সময় তিনি তা বাস্তবতা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেননি। ডেনভার শহরে একটি পেশাদার মহিলা ফুটবল দল গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল, তবে ধারাবাহিক আলোচনার পর তিনি নিশ্চিত হন যে এটি তার জন্য সঠিক সুযোগ। এই অনুভূতি তাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
ব্যক্তিগত দিক থেকে, হিপসের স্বামী টাইলার হিপস বর্তমানে এমএলএসের সান ডিয়েগো এফসির জেনারেল ম্যানেজার ও স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন। দুজনই আটলান্টিকের দু’পাশে কাজের চাপে সামঞ্জস্য বজায় রাখছেন, যা তাদের পারিবারিক ও পেশাগত জীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে।
ডেনভার সামিটের মালিক রব কোহেন এবং প্রধান কোচ নিক কুশিংয়ের উপস্থিতি হিপসকে আকৃষ্ট করেছে। কোহেনের দল গঠনের দৃষ্টিভঙ্গি এবং কুশিংয়ের ফুটবলের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি হিপসের নিজের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া, কুশিংয়ের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং তার পূর্ববর্তী ম্যানচেস্টার সিটি মহিলা ও এনওয়াইসি এফসি দলের অভিজ্ঞতা হিপসের জন্য বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
ডেনভার সামিটের প্রথম মৌসুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলটি ইতিমধ্যে কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে সাইন করেছে। অলরেডি অরলি প্রাইডের হয়ে খেলেছেন আলি ওয়াট এবং কারসন পিকেট, দুজনই ডিফেন্স ও ফরোয়ার্ড পজিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এছাড়া, ক্যারিয়ার শুরুতে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন কেলি কে, যাকে দলটি রোস্টারে যুক্ত করেছে।
ডেনভার সামিটের প্রথম ম্যাচের সূচি শীঘ্রই প্রকাশিত হবে, এবং হিপসের অন্তর্ভুক্তি দলটির আক্রমণাত্মক শক্তি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি নতুন দলকে লিগের শীর্ষে পৌঁছাতে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, লিন্ডসে হিপসের ডেনভার সামিটে যোগদান তার ক্যারিয়ারের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যা তার জন্মভূমি এবং পেশাগত লক্ষ্যকে একত্রে সংযুক্ত করে। দলটি তার উপস্থিতিতে আত্মবিশ্বাসী, এবং আগামী মৌসুমে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



