মিনেসোটা রাজ্য ট্রাম্প সরকারের বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের হঠাৎ বাড়তি উপস্থিতি বন্ধ করার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই পদক্ষেপকে সংবিধানবিরোধী “ফেডারেল আক্রমণ” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মিনেসোটা অ্যাটর্নি জেনারেল কীথ এলিসন উল্লেখ করেছেন, এই এজেন্টদের ঢুকে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিশৃঙ্খলায় ফেলে দিয়েছে এবং সহিংসতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, এই ধরনের হঠাৎ পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট হয়েছে।
মামলাটি রেনি গুডের মৃত্যুর পর ত্বরান্বিত হয়েছে, যাকে গত সপ্তাহে একটি অভিবাসন এজেন্ট গুলি করে হত্যা করেছে। গুডের মৃত্যু ব্যাপক প্রতিবাদকে উসকে দিয়েছে, যেখানে নাগরিকরা ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি ও তাদের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছে।
মিনেসোটা সরকার ফেডারেল আদালতকে অনুরোধ করেছে, এ ধরনের এজেন্টের মোতায়েন অবৈধ ঘোষণা করে তা অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেবে। মামলায় যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, ফেডারেল সরকার রাজ্যের স্বায়ত্তশাসনকে লঙ্ঘন করে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এজেন্টদের উপস্থিতি সম্পর্কে যুক্তি দিয়েছে যে, তারা অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ্য করে কাজ করছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কর্মী প্রয়োজন। প্রশাসন দাবি করে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সীমান্তে এবং অভ্যন্তরে অবৈধ প্রবেশের ঝুঁকি কমবে।
মিনেসোটা সরকারের মতে, ফেডারেল এজেন্টদের অনিয়মিত উপস্থিতি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। এদিকে, ফেডারেল দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হচ্ছে, অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ প্রয়োজন।
মামলাটি ফেডারেল আদালতে শোনা হবে, যেখানে উভয় পক্ষ তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবে। আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করে, ভবিষ্যতে ফেডারেল এজেন্টদের রাজ্যের ভিতরে উপস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে তা নির্ধারিত হবে।
এই আইনি লড়াইয়ের ফলে রাজ্য ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত, অন্যান্য রাজ্যগুলোও একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
অভিবাসন নীতি ও ফেডারেল-রাজ্য সম্পর্কের এই তীব্র বিতর্কের ফলে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে ভোটের ধারা ও পার্টি গঠনেও প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন।
মিনেসোটা সরকার দাবি করে, এজেন্টদের হঠাৎ উপস্থিতি স্থানীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে বাধা সৃষ্টি করেছে, আর ফেডারেল দৃষ্টিকোণ থেকে এটি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের জরুরি প্রয়োজনীয়তা হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে।
মামলায় উল্লিখিত মূল বিষয়গুলো হল সংবিধানিক অধিকার, ফেডারেল ও রাজ্য ক্ষমতার সীমা, এবং অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের পদ্ধতি। আদালতের রায় এই বিষয়গুলোতে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
এই সময়ে, রেনি গুডের পরিবার ও সমর্থকগণ ন্যায়বিচার ও দায়িত্বশীলতা দাবি করে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে, আর ফেডারেল সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মামলার পরিণতি রাজ্যের অভ্যন্তরে এবং জাতীয় পর্যায়ে অভিবাসন নীতি ও ফেডারেল-রাজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



