27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনঅভিনেত্রী পার্বতীর শৈশব‑কিশোর বয়সের যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতা প্রকাশ

অভিনেত্রী পার্বতীর শৈশব‑কিশোর বয়সের যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতা প্রকাশ

অভিনেত্রী পার্বতী সম্প্রতি শৈশব ও কৈশোরে ভোগ করা যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যা একক ঘটনা নয়, বরং বহু নারীর জীবনে পুনরাবৃত্তি হওয়া একটি বাস্তবতা। তিনি এই অভিজ্ঞতাগুলোকে সমাজের নিরাপত্তা শিক্ষার ঘাটতি ও লিঙ্গভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির সমস্যার সূচক হিসেবে তুলে ধরেছেন।

শৈশবের স্মৃতিতে পার্বতীর মা তাকে রাস্তায় কীভাবে নিরাপদে চলতে হবে, অচেনা লোকের কাছ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে—এমন মৌলিক নিয়ম শিখিয়ে দেন। এই শিক্ষা তার জন্য কেবল শারীরিক সুরক্ষার নয়, মানসিক নিরাপত্তার ভিত্তি গড়ে তুলেছিল।

বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পার্বতীর এই শৈশবের স্মৃতি পুনরায় উন্মোচিত হয়, যা তার আত্মবিশ্বাস ও শরীরের সঙ্গে সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। তিনি উল্লেখ করেন যে, শিশুকাল থেকেই শেখানো এই ‘নিয়মগুলো’ প্রায়শই একটি উদ্বেগজনক সামাজিক বাস্তবতা নির্দেশ করে, যেখানে নারীর নিরাপত্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

শৈশবের পরেও পার্বতীর জীবনে অনুরূপ সমস্যার ধারাবাহিকতা দেখা যায়। সতেরো বছর বয়সে তিনি পরিচিত একজনের কাছ থেকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন, যা তার মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলেছিল। এই ঘটনা তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে দাঁড়ায়।

পার্বতীর মতে, প্রায়শই ভালোবাসা বা স্নেহের আড়ালে এমন আচরণকে স্বাভাবিক বলে ধরা হয়, বিশেষ করে যখন কিশোর-কিশোরীরা সম্মতির প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারেনি। এই ধরণের গোপনীয়তা তরুণদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করে, যা পরবর্তীতে গুরুতর শোষণ ও নির্যাতনে রূপ নেয়।

এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি সমাজের প্রতি একটি স্পষ্ট আহ্বান জানিয়েছেন: শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য সম্মতি, সীমা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে স্পষ্ট শিক্ষা প্রদান করা অপরিহার্য। পরিবার ও স্কুল উভয় ক্ষেত্রেই এমন শিক্ষার অভাবই প্রায়শই এই ধরনের ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শৈশবের নিরাপত্তা শিক্ষা যদি সঠিকভাবে না দেওয়া হয়, তবে তা ভবিষ্যতে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই, পার্বতীর অভিজ্ঞতা কেবল ব্যক্তিগত গল্প নয়, বরং একটি সামাজিক সংকেত যে নিরাপত্তা ও সম্মতির শিক্ষা শুরু থেকেই শুরু হতে হবে।

পাঠকদের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, বাবা-মা ও অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা, যাতে তারা শারীরিক সীমা ও অপ্রিয় স্পর্শের ক্ষেত্রে স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারে। দ্বিতীয়ত, স্কুলে যৌন শিক্ষা ও সম্মতি বিষয়ক কর্মশালা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, যাতে তরুণরা সঠিক ধারণা গড়ে তুলতে পারে। তৃতীয়ত, কোনো অনুপযুক্ত আচরণ ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা চাওয়া ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

অবশেষে, পার্বতীর গল্প সমাজকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, নারীর নিরাপত্তা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, বরং সমগ্র সমাজের যৌথ দায়িত্ব। নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নীতি নির্ধারকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শৈশবের ভয় ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments