ওয়াশিংটন – ট্রাম্প প্রশাসন ইপিএ (পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা)কে বায়ু দূষণের নিয়ন্ত্রণে মানব স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন বাদ দেওয়ার নতুন নীতি প্রণয়নের পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই পরিবর্তনটি ওজনপূর্ণ কণিকা (PM2.5) ও জায়গায় গঠিত ওজোনের নিয়ন্ত্রণে প্রযোজ্য হবে। পরিকল্পনা অনুসারে, ভবিষ্যতে এই দূষকের সীমা নির্ধারণে স্বাস্থ্য সুবিধা আর আর্থিক ব্যয় তুলনা করা হবে না।
১৯৮১ সালে রোনাল্ড রেগান প্রেসিডেন্সির সময় ইপিএ প্রথমবার মানব জীবনের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করে, যাতে দূষণ নিয়ন্ত্রণের খরচ-সুবিধা বিশ্লেষণ করা যায়। সেই সময়ের নীতি অনুযায়ী, যদি দূষণ কমিয়ে স্বাস্থ্যের উন্নতি ব্যয়ের চেয়ে বেশি হয়, তবে নিয়ন্ত্রণের অর্থনৈতিক যুক্তি শক্তিশালী হয়।
ইপিএ ১৯৭০ সালে রিচার্ড নিক্সন প্রেসিডেন্টের আদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়, মূল লক্ষ্য ছিল বায়ু ও পানির গুণমান উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্যের রক্ষা। তখন থেকেই ওজোন ও সূক্ষ্ম কণিকার (PM2.5) স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবের তথ্য সংগ্রহ ও নীতি গঠনে ব্যবহার করা হয়েছে।
ওজোন, যখন বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে থাকে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে, তবে ভূমির নিকটে গঠিত হলে তা ধোঁয়া (স্মগ) সৃষ্টি করে। ধোঁয়ায় উচ্চ মাত্রার ওজোন শ্বাসপ্রশ্বাসের রোগ, হৃদরোগ এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়, বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুরা বেশি প্রভাবিত হয়।
PM2.5 হল এমন সূক্ষ্ম কণিকা, যার ব্যাস ২.৫ মাইক্রোমিটারের কম। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এই কণিকা হৃদরোগ, অস্থমা, পার্কিনসন, কিডনি রোগ, অ্যালঝেইমার, ডিমেনশিয়া এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে যুক্ত। গর্ভবতী নারীর PM2.5 সংস্পর্শে থাকা শিশুর জন্ম ওজন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমান করে, প্রতি বছর প্রায় দশ মিলিয়ন মানুষ সূক্ষ্ম কণিকা দূষণের ফলে মৃত্যুবরণ করে। এই সংখ্যা গ্লোবাল স্বাস্থ্য সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, যা বহু দেশের পরিবেশ নীতি গঠনে প্রভাব ফেলেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইপিএকে দশকব্যাপী গৃহীত স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন পদ্ধতি বাতিল করার পরিকল্পনা করছে। যদি এই নীতি কার্যকর হয়, তবে ওজোন ও PM2.5 নিয়ন্ত্রণে আর স্বাস্থ্যের সুবিধা গণনা করা হবে না।
প্রস্তাবিত নিয়মে, ইপিএ আর মানব জীবনের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ না করে, শুধুমাত্র শিল্পের ব্যয় ও প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা বিবেচনা করবে। ফলে দূষণ সীমা নির্ধারণে স্বাস্থ্যগত ক্ষতির পরিমাণ আর সরাসরি প্রভাব ফেলবে না।
প্রশাসনের যুক্তি হল, স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া জটিল এবং নিয়ন্ত্রক ব্যয় বাড়ায়, যা শিল্পের প্রতিযোগিতা ও কর্মসংস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই নতুন পদ্ধতিতে ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণকে সরলীকরণ করা হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিবেশ সংস্থা ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিবর্তনকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, স্বাস্থ্যের মূল্য না গণনা করলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে শিথিলতা আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রোগের হার বাড়তে পারে।
একই সময়ে ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড পরিষেবার বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ছে, এবং অনেক প্রতিষ্ঠান দুষ্প্রাপ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। ইলন মাস্কের xAI সহ কিছু প্রযুক্তি কোম্পানি উচ্চ শক্তি ব্যবহারকারী হওয়ায়, পরিষ্কার শক্তি না পাওয়া হলে বায়ু দূষণ বাড়তে পারে।
এই নীতি পরিবর্তনের ফলে কংগ্রেস ও বিচার বিভাগে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা উঁচু। পরিবেশ সংস্থা ও কিছু রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে নীতি বিরোধিতা করে নথি দাখিলের ইঙ্গিত দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে ইপিএর নিয়মাবলীর পুনর্বিবেচনা ঘটাতে পারে।



