বিএনপি‑এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া‑৬ (বাঞ্ছারামপুর) নির্বাচনী প্রার্থী ও গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, সোমবার সন্ধ্যায় বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আয়োজন করা হয়েছিল।
সাকি ৩১‑দফা কর্মসূচির আলোকে স্ব-সামাজিক প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন এবং বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে খালেদা জিয়া যে দিশা নির্ধারণ করেছেন, সেটি অনুসরণ করলে প্রতিহিংসা‑রাজনীতি থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে গণতান্ত্রিক কাঠামোতে রূপান্তর করা হবে।
দোয়া মাহফিলে উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক একেএম ভিপি মুসার সভাপতিত্বে, বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সাদেহ মুসার সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি সহসভাপতি জসিম উদ্দিন রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীন, সদস্য ভিপি নাজমুল হুদা এবং অন্যান্য জেলা ও উপজেলা স্তরের নেতারা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলামও বক্তব্য রাখেন। তিনি দলের ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নীতি ও মূল্যবোধকে অগ্রসর করা এখনো জরুরি। সিরাজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, স্ব-সামাজিক কর্মসূচি ও ৩১‑দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এম ইলিয়াস, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম সাজ্জাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএইচ জেট শুকরি সেলিম এবং যুবদলের আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ আকাশ। সকল উপস্থিতি একত্রে খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি ও দেশের উন্নয়নের জন্য প্রার্থনা করেন।
দোয়া মাহফিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা, তবে একই সঙ্গে দলীয় নীতি ও কর্মসূচি পুনরায় জোরদার করা। সাকির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, দলীয় ৩১‑দফা পরিকল্পনা অনুযায়ী স্ব-সামাজিক প্রকল্প চালু করা এবং ফ্যাসিবাদী প্রবণতা মোকাবিলায় সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া।
সাকির মতে, প্রতিহিংসা‑রাজনীতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং তা থেকে মুক্তি পেতে হলে ঐতিহাসিক নেতাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া যে নীতি ও দিশা নির্ধারণ করেছেন, তা অনুসরণ করলে সমাজে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।
বিএনপি নেতৃত্বের অন্যান্য সদস্যরাও একই সুরে কথা বলেন। তারা জোর দেন, স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা দরকার। এছাড়া, গ্রামীণ উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করার জন্য স্ব-সামাজিক কর্মসূচি চালু করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সবাই একসাথে খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি ও দেশের সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন। দোয়া মাহফিলটি সমাপ্তির পর, উপস্থিত নেতারা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন।
এই দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে বিএনপি তার নির্বাচনী কৌশল পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বাঞ্ছারামপুরের ভোটারদের কাছে স্ব-সামাজিক উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। সাকির বক্তব্যে স্পষ্ট যে, দলীয় নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জোনায়েদ সাকির প্রার্থীতা এবং তার স্ব-সামাজিক কর্মসূচি কীভাবে ভোটারদের কাছে পৌঁছাবে, তা আগামী সপ্তাহে আরও বিশ্লেষণ করা হবে। তবে বর্তমান পর্যায়ে, দোয়া মাহফিলটি দলের ঐক্যবদ্ধতা ও নীতি পুনরুজ্জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে।



