শেইন গিলিস এবং জন ম্যাককিভার নেটফ্লিক্সের সঙ্গে একটি নতুন ওভারঅল চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। এই চুক্তির আওতায় দুজনই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের জন্য চলচ্চিত্র, সিরিজ এবং অ-স্ক্রিপ্টেড প্রকল্প তৈরি করবেন। একই সময়ে গিলিসের তৃতীয় সিজনের “টায়ারস” শুটিং পশ্চিম চেস্টার, পেনসিলভানিয়ায় চলছে।
চুক্তিটি দুজনকে নেটফ্লিক্সের কন্টেন্ট লাইব্রেরিতে নতুন রসিকতা এবং গল্পের স্বাদ যোগ করার সুযোগ দেবে। গিলিসের রসিকতা তার নির্ভীক স্বর এবং দৈনন্দিন জীবনের হাস্যকর দিকগুলোকে তুলে ধরার ক্ষমতা নিয়ে গঠিত, যা তাকে অন্যান্য কমেডিয়ানদের থেকে আলাদা করে। “টায়ারস”-এ গিলিস এবং ম্যাককিভার একই কাঁচা, অপ্রস্তুত শক্তিকে একটি সিরিজে রূপান্তরিত করেছেন, যা দর্শকদের কাছে পরিচিত ও স্বাভাবিক মনে হয়।
নেটফ্লিক্সের কমেডি সিরিজ বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ট্রেসি প্যাকোস্টা চুক্তি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, গিলিসের স্বতঃস্ফূর্ত রসিকতা এবং সাধারণ জীবনের হাস্যরসকে তিনি প্রশংসা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গিলিস ও ম্যাককিভারের অপ্রচলিত রসিকতা বিশ্বব্যাপী দর্শকদের কাছে পৌঁছাবে।
গিলিসও নেটফ্লিক্সের সঙ্গে কাজের বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নেটফ্লিক্সের সঙ্গে সহযোগিতা সবসময়ই সৃজনশীলভাবে সহায়ক হয়েছে এবং শীঘ্রই “টায়ারস”ের তৃতীয় সিজন শ্যুটিং শুরু হবে। তার এই মন্তব্যে দেখা যায়, তিনি প্ল্যাটফর্মের সমর্থনকে মূল্যায়ন করছেন।
ম্যাককিভারও নেটফ্লিক্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নেটফ্লিক্সের সৃজনশীল সহায়তা তাদের কাজকে আরও বিস্তৃত করে তুলেছে এবং “ড্যাড সিক” ব্র্যান্ডের অধীনে কয়েকটি নতুন প্রকল্প শীঘ্রই বাস্তবায়িত হবে। তিনি যোগ করেন, এখনো কোনো প্রকল্পের জন্য নেটফ্লিক্সের পিছু হটতে সময় নেই।
গিলিসের প্রথম নেটফ্লিক্স স্ট্যান্ড‑আপ স্পেশাল “বিউটিফুল ডগস” ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয়। এই স্পেশালটি “ড্যাড সিক” প্রোডাকশনের প্রথম কাজ হিসেবে স্বীকৃত। চুক্তির অংশ হিসেবে গিলিস ২০২৬ সালের মধ্যে দুটি নতুন স্ট্যান্ড‑আপ স্পেশাল আরও প্রকাশ করবেন।
“টায়ারস” সিরিজটি উইল (গেরবেন) নামের এক তরুণের গল্প, যিনি অটো রেপেয়ার চেইনের উত্তরাধিকারী হলেও ব্যবসা চালাতে অযোগ্য। তার কাজের পথে তার চাচা এবং এখন কর্মচারী শেইন (গিলিস) তার উপর ক্রমাগত চাপ আরোপ করে। সিরিজটি বাস্তব জীবনের টায়ার শপের পাশে শুট করা হয়েছে, যেখানে গেরবেনের পিতার প্রকৃত দোকানও দৃশ্যের অংশ।
শুটিংয়ের জন্য গিলিস মূল দোকানের পাশে একটি খালি জায়গা কিনে সেটিকে হলিউডের মতো সাজিয়ে নেন। এইভাবে সিরিজের দৃশ্যগুলো বাস্তব পরিবেশে রেকর্ড করা সম্ভব হয়েছে, যা দর্শকদের কাছে আরও স্বাভাবিক ও প্রামাণিক অনুভূতি দেয়। গিলিস, ম্যাককিভার এবং গেরবেন একসাথে সিরিজের সৃষ্টিতে যুক্ত ছিলেন।
প্রোডাকশন টিমে রাফ হাউস (ড্যানি ম্যাকব্রাইডের প্রোডাকশন হাউস) থেকে ব্র্যান্ডন জেমস, এজি আই এন্টারটেইনমেন্ট মিডিয়া অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের ব্রায়ান স্টার্ন ও কেনেথ স্লটনিক, এবং বেকি অ্যাস্টফা এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে কাজ করছেন। এই সমন্বয়টি সিরিজের গুণগত মান এবং বাজারে সাফল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
নেটফ্লিক্সের সঙ্গে এই নতুন চুক্তি গিলিস ও ম্যাককিভারের ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উভয়ই তাদের স্বতন্ত্র রসিকতা এবং গল্প বলার শৈলীকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে প্রস্তুত। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নেটফ্লিক্সের কন্টেন্ট লাইব্রেরিতে আরও বৈচিত্র্যময় ও অনন্য কমেডি যোগ হবে বলে আশা করা যায়।



